শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......আজ ভয়াল সেই ২৯ এপ্রিল, এখনও অরক্ষিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূল

আজ ভয়াল সেই ২৯ এপ্রিল, এখনও অরক্ষিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূল

আজ ভয়াল সেই ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। ২৫ থেকে ৩০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল পুরো উপকূলীয় এলাকা। সেই সঙ্গে ৫০ হাজার মানুষসহ কয়েক লাখ গবাদিপশু প্রাণ হারিয়েছিল। লাখ লাখ বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, গাছপালা, ফসলি জমি লণ্ডভণ্ডসহ শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল।  ২৯ এপ্রিলের সেই ভয়াবহতার দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও আজও অরক্ষিত রয়ে গেছে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকা। তাই আজও সাগরের সামান্য গর্জনে সাগরপারের সাধারণ মানুষের প্রাণ আঁতকে ওঠে।
২৯ এপ্রিলের ভয়াবহতা গত ২৪ বছরেও ভুলতে পারেনি উপকূলবাসী। তা ছাড়া বঙ্গোপসাগর ও নদী উপকূলীয় বাঁশখালী থেকে আনোয়ারা হয়ে কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী পটিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার উপকূলের বেশিরভাগ এখনও অরক্ষিত পড়ে আছে। এখনও মানুষের তুলনায় উপকূলে পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়নি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে উপকূলে স্থাপিত দুই শতাধিক সাইক্লোন শেল্টার। ফলে সামান্য ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আগমন ঘটলে দিশেহারা হয়ে পড়ে উপকূলীয় মানুষ।
ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, ২৯ এপ্রিলের ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাঁশখালীর প্রায় ৪০ হাজার নরনারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করায় উপকূলীয় এলাকা এখনও অরক্ষিত। আনোয়ারার রায়পুরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু ছৈয়দ ও জুইদণ্ডির সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক হোসাইনি জানান, ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে আনোয়ারা উপকূল লণ্ডভণ্ড হয়ে অন্তত ১৫ হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ প্রাণ হারিয়েছিল। আজ ২৯ এপ্রিল স্মরণে বাঁশখালী, আনোয়ারাসহ পুরো উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সভা-সমাবেশ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ