মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেছেন, আমি চাই না আমার এ কর্মকাণ্ডে আমার দল বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রীর বিব্রত হোক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি কোনো ভুল করেননি। তবে তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের কার্যক্রম যেন ম্লান না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। সোমবার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আজকের দিন হতে আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, এবং আমি উনাকে বলেছি পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তীতে আরও যদি এলাকা থাকে সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি সম্মত হয়েছেন। সদয় সম্মত হয়েছেন। এবং আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন, ঠিক আছে যাও এলাকা ঠিক করে এলাকায় কাজ কর।’
পদত্যাগের ঘোষণার আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে গিয়ে আলাপ-আলোচনা করি এবং আমি ওনাকে বলি যে—মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যে কাজগুলো করে চলেছেন, এখানে যে পরিস্থিতিটা তৈরি হয়েছে—বাই দ্য ওয়ে, আমি কিন্তু সব গণমাধ্যমের যারা কর্তাব্যক্তিরা রয়েছে, তাদের সাথে অনুরোধ করে আমার বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেছি যে, আসলে আমি কি কারণে গিয়েছি। সেখানে কোনো জমি দখল করতে যাই নাই, চাঁদা উঠাইতে যাই নাই—মাদককে চিরতরে যুদ্ধ করতে গিয়েছে।’
মিডিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ওই দিন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে আটটি স্পট পরিদর্শন করেছিলেন, যেটা একটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ এবং সারাদেশের মানুষ প্রশংসা করেছে। কিন্তু আমার ঘটনাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করল দেশের মিডিয়াগুলা, তাতে করে সেই সমস্ত কিছুই ধামাচাপা পড়ে যায়।’
প্রতিমন্ত্রী থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও ‘মাদক অভিযানে গিয়ে আমি কোনো ভূল করিনি’ বলে মন্তব্য করেছেন ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি কাউকে আঘাতপ্রাপ্ত করে থাকি এই অভিযানের মাধ্যমে, সেটার জন্য আগে আমি দুঃখপ্রকাশ করে নিচ্ছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। আমি কেবল আমার নিরাপত্তার জন্য আমার হাতে অস্ত্রটুকু যতটুকু সময় প্রয়োজন রেখেছিলাম, পরবর্তীকালে সেটি আর আমার দৃশ্যমান হয়নি।




