চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল বিভাগের রায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের আশংকা করছে পুলিশ। এজন্য নগরী ও জেলায় পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে শুক্রবার থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতভর নগরী ও জেলায় জামায়াত অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নগর পুলিশ এবং জেলা পুলিশের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে দাপ্তরিক নির্দেশ আসে। সিএমপিতে এ নির্দেশনা আসার পর উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। একইভাবে জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে সকল থানায় এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার বলেন, রায় নিয়ে সহিংসতা হতে পারে মর্মে সতর্ক করে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটা নির্দেশনা এসেছে। সহিংসতা মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছি। ধারাবাহিকভাবে সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো.ইলতুৎমিশ বলেন, সহিংসতা মোকাবেলার ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ এসেছে। আমরা সব থানাকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সহিংসতাপ্রবণ এলাকাগুলোর জন্য আমরা কৌশল চূড়ান্ত করছি।
নগর পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশ পাবার পর নগরীর মেস, মাদ্রাসা, হোস্টেলগুলোর তালিকা যাচাইবাছাই করে শুক্রবার রাত থেকে পর্যায়ক্রমে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। সিএমপি’র চার বিভাগের উপ-কমিশনার ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে এসব অভিযান চলছে। এছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ নগরীর বিভিন্ন থানায় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে মামলা, এসব মামলার আসামীদের অবস্থান, জামায়াত-শিবিরের নেতাদের বর্তমান অবস্থানসহ সবকিছু খতিয়ে দেখছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন মেস এবং কলেজ-মাদ্রাসার হোস্টেলে তল্লাশির সময় সেখানে অবস্থানকারীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের ছবি তোলা হচ্ছে। মাদ্রাসাগুলোতে কত শিক্ষার্থী আছে তার সংখ্যা এবং তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া সিটি গেইট, মইজ্জ্যার টেকসহ বিভিন্ন এলাকায় যেসব পুলিশ চেকপোস্ট আছে সেগুলোতেও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। বাইরের জেলা থেকে আসা প্রত্যেক বাস, মোটর সাইকেল, সিএনজি অটোরিক্সা তল্লাশি করা হচ্ছে। বাসগুলোতে যাত্রীদের ভিডিও করে রাখা হচ্ছে।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হয়। এ রায়কে ঘিরে চট্টগ্রামজুড়ে নারকীয় তান্ডব সৃষ্টি করে জামায়াত-শিবির। সবচেয়ে বেশি তান্ডবের ঘটনা ঘটে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলায়। নগরীর বেশ কয়েকটি স্থানেও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে পুলিশ কনস্টেবলসহ কমপক্ষে ৪ জন নিহত হন। বাঁশখালীতে বিভিন্ন গুজব সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা উপজেলা কমপ্লেক্স, আদালত এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুন দেয়। বিভিন্ন সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো.ইলতুৎমিশ বলেন, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া এবং বাঁশখালীকে এবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছি। রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হলে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ, প্রয়োজনে বিজিবি মোতায়েন করা হবে।
সাতকানিয়া থানার ওসি মো.খালেদ হোসেন বলেন, সাতকানিয়ায় আপাতত কোন ধরনের মিছিল-সমাবেশ করতে দেয়া হবেনা। প্রতি রাতেই আমরা বিভিন্ন সহিংসতার মামলার ওয়ারেণ্টভুক্ত আসামীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি। এ অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।
লোহাগাড়া থানার ওসি মো.শাহজাহান বলেন, লোহাগাড়ার কোথায় কি ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে সেসব বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি। সহিংস প্রতিক্রিয়া মোকাবেলার কৌশল এবং করণীয় নির্ধারণ করে আমরা দু’একদিনের মধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।




