ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়া আর কারও নিরাপত্তা নেই—জনগণ ও গণতন্ত্রের স্বার্থেই দেশে দ্রুত নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশনে শ্রমিকদলের বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘এরশাদকে নিয়ে বেশি দিন থাকতে পারবেন না, থাকতে পারবেন না। বিদায় নিতেই হবে, নিতেই হবে। এরা ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। কী কাজ করছেন, কোথায় টাকা যাচ্ছে- সব তথ্য আছে।’
তিনি বলেন, ‘কোন প্রতিষ্ঠানটা আপনারা দলীয়করণ করেননি। কিন্তু যখন বিদায় নেবেন তখন প্রশাসন আর আপনাদের চিনবে না। আপনারা জনগণের সরকার হলে সবাই তো আপনাদের হবার কথা তাহলে কেন বিভাজন সৃস্টি করবেন। দলীয়করণ করবেন।’ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না দেওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা।
ওই নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘নিজেরা নিজেদের ভোটটা দিতেই যায়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বা আগে বাংলদেশে এ রকম কখনও হয়নি। দেশবাসিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাবো এ প্রহসনের নির্বাচনে যান নাই তার জন্য।’ দেশে গণতন্ত্র নেই বলে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের ধরে নিয়ে গুম করা হয়- এমন অভিযোগ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারো লাশ পাওয়া য়ায়, কারো যায় না। দেশ কঠিন সময় পার করছে—দেশে কারও জীবন নিরপাদ নয়, আওয়ামী লীগ ছাড়া।’
বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামীর অপহরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আবু বকর সিদ্দিককে কীভাবে গুম করা হলো। এ হলো অবস্থা। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলো। যখন পৃথিবীর সব জায়গা থেকে প্রতিবাদ শুরু হলো। সরকার দেখলো একে ছেড়ে নো দিলে পরিস্থিতি হতো ভয়বাহ।’
‘অবৈধ সরকার ভদ্রলককে ছেড়ে দিয়ে বুদ্ধিমানের কাজ করেছে। না হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হতো। সেটা সরকার বুঝতে পেরেছে। এখনও আমরা ইলিয়াসকে ফিরে পায়নি’, যোগ করেন তিনি।
খালেদা বলেন, ‘অবৈধ সরকারকে বলব এখনও যাদের আটকে রেখেছেন তাদের ছেড়ে দিন। প্রতিটি মানুষ যারা গুম হয়েছেন, তাদের হিসাব থাকে আমাদের কাছে। প্রতিনিয়ত মানুষ গুম করে হত্যা করছেন, এর জবাব দিতে হবে।’ বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের মূল দল দাবি করে আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে তো আপনাদের তেমন কোনো অবদান নেই সীমান্ত পাড়ি দেয়া ছাড়া। মুক্তিযুদ্ধের মূল দল হলো বিএনপি।’
এসময় খালেদা জিয়া দেশের স্বার্থে মিলেমিশে কাজ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আসুন মিলেমিশে আলোচনা করে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করি। দেশকে রক্ষা করতে অবিলম্বে নির্বাচন দিতে হবে।’
এর আগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের জাতীয় সম্মেলন ও কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। অনুষ্ঠনে সভাপতিত্ব করছেন শ্রমিকদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাফর, শ্রমিক দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি আবুল কাশেম, শ্রমিক দলের সহাসভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ার প্রমুখ ।
শ্রমিক দলের জাতীয় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গনি, এমকে আনোয়ার, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান প্রমুখ।




