শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদইন্টারভিউচোখের ডাক্তার দেখান: খালেদাকে হাসিনা

চোখের ডাক্তার দেখান: খালেদাকে হাসিনা

ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)

বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে চোখের ডাক্তারের কাছে যেতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী উন্নয়ন দেখে না, আমি আর কি বলবো চোখের ডাক্তারের কাছে যান।

বুধবার নবম সংসদের ১৯তম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সিরাজুল আকবরের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সড়ক অবকাঠামো, ফ্লাইওভার, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা বিরোধী দলীয় নেত্রী দেখেন না।
সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার কথা বিবেচনা করে রূপপুরে পরিবেশ বান্ধব পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রটিতে এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিটের প্রাথমিক কার্য সম্পাদনের জন্য চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার ফেডারেশনের সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বেগম নূরজাহান আফরোজ আলীর এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, মূল সেতু ও নদী শাসন কাজের সিএসসি নিয়োগে এক্সপেশন অফ ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১১টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বর্তমানে এসব প্রস্তাব মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে।
নূরজাহান আফরোজ আলীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের আওতায় রাজধানীসহ সমগ্র দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় আকারে তিনটি ফ্লাইওভার, ১২ টি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এ নির্মাণ কাজে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
একেএম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩০০টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠিত হয়েছে। যার সরাসরি উপকারভোগী ১০লাখ ৩৮ হাজার পরিবারের ৫১ লাখ দরিদ্র জনগণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন সমিতির সদস্যদের নিজস্ব সঞ্চয়ের পরিমাণ ৩৫৫ কোটি টাকা। আর সরকার প্রদত্ত বোনাস ৩৫৫ কোটি টাকা এবং সরকার প্রদত্ত ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল ৪৯০ কোটি টাকাসহ সমিতিগুলোর মোট তহবিলের পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই তহবিল থেকে ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা প্রতি গড়ে ১ হাজার ৩৬০টি হিসেবে মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক আয়বর্ধক খামার গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পটি দেশের ৪৮৫ টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং প্রতি উপজেলায় উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ২ হাজার ১৬০টি।
পরিকল্পনা ও আইএমডি’র সম্পৃক্ততায় করা একটি মূল্যায়নের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত এক বছরে এ প্রকল্পের আওতায় যে সকল ব্যক্তি খামার গড়ে তুলেছেন তাদের বাৎসরিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০হাজার ৯২১ কোটি টাকা। গত ৪ বছরে ৮ থেকে ৯ ভাগ দরিদ্র নিরসন করা সম্ভব হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫ বছরে দারিদ্র্যকে শূন্যের কোঠায় আনা সম্ভব হবে।
ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে উপকারভোগীদের সঞ্চয় জমা, উত্তোলন ও ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। ৪০টি জেলায় ১৭০ কোটি টাকার ২১ লাখ ৮০হাজার অনলাইন আর্থিক লেনদেন হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৪৮৫টি উপজেলায় অনলাইন লেনদেন পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের সফলতা বিবেচনা করে সরকার দেশের ৪৮৫টি উপজেলায় ৪ হাজার ৫০৩টি ইউনিয়নের সব ওয়ার্ডে মোট ৪০ হাজার ৫২৭টি গ্রামে প্রকল্প সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩০ জুলাই ৩ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রসারিত প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি একনেক সভায় অনুমোদন লাভ করেছে।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ