ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে সায় নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাবকে তিনি ‘পেছনের দিকে যাওয়া’ বলেছেন।
বিকালে দিনাজপুরের গোর এ শহীদ ময়দানে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তার এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমি সর্বদলীয় সরকার গঠনের আহ্বান করেছিলাম। ওনার এটা পছন্দ হয়নি। ওনি নির্বাচিত প্রতিনিধি পছন্দ করেন না। ওনি ফিরে গেলেন পেছনে। ওনি গেলেন ১৯৯৬ সালে। অথচ ওই নির্বাচনের পর তিনি সে সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমানের বাড়িতে হামলা করার জন্য ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের পাঠিয়েছিলেন। এখন তিনি সেই উপদেষ্টাদের ডাকছেন’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করলেও বর্তমান সরকার তারা সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সামনে চলতে, ওনি টানেন পেছনে’।
শেখ হাসিনা বলেন, এর আগেও তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ডাকে সাড়া না দিয়ে খালেদা জিয়া তাকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আহ্বান করলাম আসুন আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করি। ওনি আমাকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন আমি নাকি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাবো। কোথায় গেলো ওনার ৪৮ ঘণ্টা। ওনি জামায়াত-শিবির রাজাকার আর হেফাজতকে নিয়ে বসালেন শাপলা চত্বরে। মাদ্রাসার ছোটোছোটো বাচ্চাদের বসালেন। কোরআর শরিফ পোড়ালেন, মসজিদে আগুন দিলেন। ব্যাংক, হাউজি বিল্ডিং করপোরেশন মসজিদে আগুন দিয়ে কীভাবে ইসলাম ধর্ম রক্ষা হয়?’।
সমাবেশের আগে দিনাজপুরে ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার একটি উন্নত দেশ গড়ায় কাজ করছে। দেশের স্বার্থে বর্তমান সরকারের নেয়া নানা উন্নয়ন প্রকল্পের বর্ণণাও দেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সার-বীজের দাম কমিয়েছি। কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছি। কৃষক ভর্তুকির টাকা সরাসরি পাচ্ছে। উৎপাদন বাড়িয়েছে তারা। আমরা দেশের মানুষের আয় বাড়িয়েছি। বিএনপি আমলে দিনমজুররা সারাদিন খেটে দুই কেজি চাল কিনতে পারতো না। এখন তারা আট থেকে দশ কেজি চাল কিনতে পারেন। মানুষের মাঝে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছি।
শিক্ষাখাতে বর্তমান সরকারের নেয়া নানা প্রকল্পও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বই কেনার জন্য এখন টাকা খরচ করতে হয় না। মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার খরচের দায়িত্ব আওয়ামী লীগ সরকার নিয়েছে। পহেলা জানুয়ারি আমরা উৎসব করে বই দিয়ে যাচ্ছি। ৭৮ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি, ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছি মাধ্যমিক পর্যায়ে। উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড। এক লাখ ৩৩ হাজার ছাত্রীকে বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা করছি’।
আগামীবার ক্ষমতায় আসলে প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের বর্ণণা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়েছে। ১৯৯৬ সালে সারাদেশে খোলা ১১ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক বিএনপি ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দিলেও আবার তা চালু করেছে। বরং আগের চেয়ে এই সংখ্যা বেড়েছে। এখন মানুষ। ঘরের কাছে চিকিৎসা, বিনা পয়সায় ওষুধ পাচ্ছে এখন মানুষ। প্রত্যেক বৃত্ততর জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ করার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইশতেহারে দেয়া অঙ্গীকারের চেয়েও বেশি কাজ করেছি’। উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে আগামীতে আবারও নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।
সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সাড়ে চার বছরে ছয় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বাড়িয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে এই ক্ষমতা আরও বাড়বে। ছয় হাজার ছয়শ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক এবং দুই হাজার মেগাওয়াটের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকার অনুমোদন করেছে বলেও জানান তিনি।
১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেদিন তার জন্মদিন না। দিনাজপুরে তিনি পড়াশোনা করেছেন। স্কুলে লেখা আছে ৫ সেপ্টেম্বর তার জন্মদিন। মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তাতেও লেখা আছে ৫ সেপ্টেম্বর। তারপরও তিনি ১৫ আগস্ট কেক কাটেন, ফুর্তি করেন’।




