দেশের বেসরকারি খাতে প্রথমবারের মতো এক হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন বন্ড’ ইস্যু করতে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। তিন বছর মেয়াদি এই বন্ডের সুদের হার ধরা হয়েছে ৭.৫০ শতাংশ এবং এই বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান এ তথ্য জানান।
ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি বলেন, বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে এই বন্ড ইস্যু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন বন্ড নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি এই বন্ড নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং শিল্প খাতে জ্বালানি-দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বন্ড ইস্যুর এই উদ্যোগ টেকসই অর্থায়নের প্রতি ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গীকার তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি দেশের অর্থনীতিকে আরও পরিবেশবান্ধব ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলার অগ্রযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, এই গ্রিন বন্ড ব্র্যাক ব্যাংকের টেকসই অর্থায়নের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। এটি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আরও বিকাশে অর্থবহ ভূমিকা রাখবে। নির্ধারিত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য বিশেষভাবে মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে আমরা টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।
বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিল্পকারখানাগুলো জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সাশ্রয়ী ও সহজ শর্তে এসব নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়নে ব্যবহৃত হবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি আরও জানান, ব্যাংক খাতের অন্যতম আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের রয়েছে সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণ এবং বহুমুখী বিনিয়োগের খাত। ব্যাংকের এই বিশ্বাসযোগ্যতা ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে খুব সহজেই গ্রিন ঋণ তহবিল বিতরণ সম্ভব হবে।
বন্ডের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এবং তা টেকসই অর্থায়নে কেমন ভূমিকা রাখছে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অডিট করা হবে। বন্ডের অর্থ পরিবেশবান্ধব খাতে বিতরণে গ্রাহক নির্বাচন ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যাতে ঋণ বিতরণের স্বচ্ছতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তিন বছর মেয়াদি এই বন্ডটি হবে অরূপান্তরযোগ্য, সম্পূর্ণ পরিশোধযোগ্য ও জিরো-কুপন বন্ড। সংগৃহীত অর্থ পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে।
এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রিন বন্ড অর্থায়ন নীতিমালা’ অনুসরণ করে ইস্যু হতে যাওয়া দেশের প্রথম গ্রিন বন্ড। বন্ডটি ইন্টারন্যাশনাল ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের গ্রিন বন্ড মূলনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা টেকসইতার মানদণ্ড, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গীকার প্রকাশ করে। এছাড়া, বন্ডটির পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য ও টেকসই কাঠামোর ওপর স্বাধীন মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস একটি ‘সেকেন্ড-পার্টি ওপিনিয়ন’ প্রদান করেছে।
বন্ডটির অভিহিত মূল্য ৎ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া প্রযোজ্য বিধিবিধান ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিভিন্ন কোম্পানির প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড থেকেও এতে বিনিয়োগ করা যাবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীন ইকবাল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চিফ কমিউনিকেশন অফিসার একরাম কবীর।




