ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
অবশেষে হাইড্রেন সিস্টেমের (স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা) আওতায় আসছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর। টানা প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় সোয়া ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশ্বমানের এই রিফুয়েলিং স্টেশনটি। আগামী বুধবার এই স্টেশনের উদ্বোধন করা হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহের অত্যাধুনিক এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উড়োজাহাজে হাইড্রেন সিস্টেমে জ্বালানি সরবরাহের ফলে পুরানো পদ্ধতির মাত্র এক তৃতীয়াংশ সময় লাগবে। জ্বালানি নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অবতরণ বাড়ার সুবাদে বিপুল রাজস্ব আয়ও হবে।শাহ আমানত বিমান বন্দরে আসা উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহকারী রাষ্ট্রায়ত্ত্ব একমাত্র প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, প্রায় সোয়া ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরে ‘কনস্ট্রাকশন এভিয়েশন রিফুয়েলিং ফ্যাসিলিটিজ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা থাকলেও কার্যত গত জুন মাস থেকে স্টেশনের অবকাঠামোগত কাজ শুরু হয়। প্রকল্পে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ করছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনকন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট।প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এতদিন জ্বালানি ভর্তি ভাউচার উড়োজাহাজের কাছে নিয়ে গিয়ে সেখানে পাইপ লাগিয়ে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। হাইড্রেন সিস্টেম স্থাপনের ফলে বিমান বন্দর গ্রাউন্ডে এখন আটটি হাইড্রেন পয়েন্ট (পিট) রাখা হয়েছে। সেসব পয়েন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এখন একই সময়ে একসাথে আটটি উড়োজাহাজে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। উদাহরণ দিয়ে ওই সূত্র জানায়, ম্যানুয়াল সিস্টেমে একটি বোয়িং- ৭৭৭ বা ডিসি- ১০ উড়োজাহাজে ৮৫ হাজার লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহে ৬০ মিনিট সময় লাগতো, বিশ্বমানের এই পদ্ধতির ফলে একই উড়োজাহাজে তেল সরবরাহে এখন বড় জোর ২০ মিনিট সময় লাগবে।চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের সদ্য যোগদানকারী ম্যানেজার উইং কমান্ডার নূরে আলম বলেন, বিশ্বমানের রিফুয়েলিং সিস্টেম স্থাপনের ফলে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য শাহ আমানত বিমান বন্দরে এখন থেকে আন্তর্জাতিক রুটের উড়োজাহাজের আনাগোণা বাড়বে। এতে রাজস্ব আয়ও বহুগুণ বেড়ে যাবে।




