ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
আর মাত্র কয়েকটি ঘণ্টার অপেক্ষায়। এরপরই কোরবানির ঈদ। তাই কোরবানির পশুর হাট গুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা। জমে উঠেছে ক্রেতাদের ভিড়। সরেজমিনে রাজধানী কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ হাট গুলো সোমবার সন্ধ্যার পর একেবারেই ফাঁকা হয়ে গেছে।গরু সঙ্কটে পড়েছে হাট গুলো। যে দু-চারটি পশু আছে তার মূল্য আকাশচুম্বী। আগের তুলনায় বড় গরুতে দাম বেড়েছে ২০-৩০ হাজার টাকার ওপরে।
কয়েক দিন ধরেই কয়েকটি মিডিয়াতে কোরবানির পশুবাজার নিয়ন্ত্রক সিন্ডিকেট হাটে হাটে নানা গুজব ছড়িয়ে দেয়। এসব গুজবের অন্যতম ছিল বিদেশী গরুতে বাজার সয়লাব, পানির দামে গরু বিক্রি হচ্ছে, বেপারীরা পুঁজি হারিয়ে পথে বসে যাচ্ছেন ইত্যাদি।
এসব গুজবে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় গরু আমদানি। আর যাদের গরু হাট গুলোতে রয়েছে তারা ২০-৩০ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেন প্রতি গরুতে। এতে হঠাৎ করেই বিপাকে পড়ে যান ক্রেতারা। আগের দিন যে টাকায় গরু কেনাবেচা হয়েছে সে অনুযায়ী অনেকেই টাকা নিয়ে হাটে গিয়ে মাথায় হাত। গরুপ্রতি বেড়েছে ১০-২০ হাজার টাকা। অনেকে ওই দামে ছোট গরু কিনে বাসায় ফিরেছেন, আবার কেউ কেউ বাসায় গিয়ে আরো টাকা আনতে বাধ্য হয়েছেন। কমলাপুর পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়,সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম। এতে বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটলেও ক্রেতাদের মুখে তা দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাটের নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কোরবানির পশুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তিন দিন আগে, অর্থাৎ গত রবিবার রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বসার কথা ছিল। অথচ হাট বসেছে নির্ধারিত সময়ের চার দিন আগেই। গরু-ছাগলে হাটগুলো ভরে যায়। যে কারণে পশুর দাম কমে যায়। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার হাটগুলোতে পশু আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে আজ হাটের শেষ দিনে কৃত্রিম সংকট দেখা দিতে পারে। এতে করে দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানায়, গরুর বাজার মন্দা এই কথা শুনে যারা গরু নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন তারাও ফিরে গেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, দৌলতদিয়া ও আরিচাঘাটে রোববার সকাল থেকে অপেক্ষা করছিল পাঁচ-ছয় শ’ গরুবাহী ট্রাক। এই ট্রাকগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ওই ঘাট থেকে ফিরে যায়, আবার কোনো কোনো বেপারী গরু নিয়ে চলে যান আশপাশের গ্রাম্য হাটে। খরচ বাঁচাতে তারা আর ঢাকায় আসেননি। ফলে বাজারের গরু যত কমতে থাকে দাম ততই চড়া হতে থাকে।
রাত ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ী শনিআখড়া কোরবানি পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, যেখান বিগত ৩দিন মাঠ পেরিয়ে রাস্তায় গরু রাখা হয়েছিল আজ সেখানে পুরো হাটে মাত্র ৫০০-৮০০ গরু।এখানে আসা ক্রেতারা হতাশ হয়ে ফিরে যায়। আর যে গুলোও রেয়েছে সে গুলোর দাম বেড়েছে ১০-২৫ হাজার টাকা।
তবে অনেকেই মনে করছেন মহাসড়কে গুলোতে যানজটের কারণে গরুর ট্রাক গুলো আটকে আছে।সে গুলো রাজধানীতে প্রবেশ করলে বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আবার অনেকেই বলছেন মূল্য বা টাকা বড় কথা নয় এখানে আমরা ত্যাগ এর প্রমাণ দিতে চাই।আল্লাহকে সন্তোষটি করতে চাই।




