ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
আর মাত্র দু’দিন পরেই ঈদুল আজহা। এরইমধ্যে সাধ ও সাধ্যের কোরবানীর পশু কিনতে ব্যস্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। প্রথম দিকে বাজারে ক্রেতাদের সমাগম কম থাকলেও গত দু’দিন ধরে তাদের আনাগোনায় জমে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের গরুর হাটগুলো। পুরোদমে চলছে কোরবানী পশুর বেচাকেনা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দু’দিন ধরে কোরবানীর বাজার বেশ জমে উঠেছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পুরোদমে এ কেনাবেচা চলবে। গবাদি পশুর দামও এখন পর্যন্ত সহনীয় পর্যায়ে আছে। বাজারের যে চিত্র দেখা গেছে তাতে কোন ধরনের সংকট কিংবা পশুর দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ব্যবসায়ীরা গতবারের মত হঠাৎ পশুর দামে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। বন্দরনগরীর ঐতিহ্যবাহী ও সবচেয়ে বড় স্থায়ী গরুর হাট সাগরিকা এবং বিবিরহাট সহ বিভিন্ন অস্থায়ী বাজার ঘুরে বিক্রেতা, ক্রেতা ও ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্রেতাদের সুবিধার জন্য এবার নগরীর সবচেয়ে বড় ও স্থায়ী বাজার সাগরিকা গরুর হাটকে তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। একটি বাজারে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের, অপর বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুমিল্লার এবং আরেকটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দেশি গরু বিক্রি হচ্ছে। অন্যপাশে রয়েছে ছাগলের হাট। তবে বাজারে আমদানি করা ভারতীয়, নেপালী ও মায়ানমারের গরুর উপস্থিতি বেশী। বিভিন্ন গরুর বৈশিষ্ট নিয়ে ব্যবসায়ীরা জানালেন, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের গরু আকারে বড়, দাম বেশি কিন্তু শান্তশিষ্ট। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গরু মাঝারি আকারের তবে মেজাজ চড়া। দু’এলাকার গরুর স্বভাব দু’রকম।
আবার রাজশাহী,দিনাজপুর ও সিরাজগঞ্জের অধিকাংশ গরুই ফার্মের। ক্রেতাদের যাতে গরু চিনতে সুবিধা হয় সেজন্য এলাকাভেদে আলাদাভাবে গরুর বাজার বসানো হয়েছে বলে তারা জানান। কোরবানীর দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব বাজারে মানুষের যেমন আনাগোনা বাড়ছে তেমনি নিজেদের পশুকে ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা প্রচেষ্টার কমতি নেই বিক্রেতাদের। পশুর গলায় ফুলের মালা, মাথা-শিং ও শরীরে ভিন্ন রঙের ‘সম্মিলন’ করছেন তারা।
সাগরিকা হাটে ব্যবসায়ী সমিতির পাশে কথা হয় সিরাজগঞ্জের বেপারী মো. নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার কুষ্টিয়া থেকে তিনি বড় আকৃতির ৮টি গরু এনেছেন। এসব গরু কিনে তিনি নিজ ফার্মে লালন পালন করেছেন। বাজারে সে অনুযায়ী দামও পাচ্ছেন।
তিনি বলেন,‘গত বারের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা কম। যেসব গরু নিয়ে এসেছি এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে ৫টি বিক্রি করেছি। এরমধ্যে একটি গরু সবোর্চ্চ দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।’
একই বাজারে নোয়াখালী সুবর্ণচর থেকে আসা বেপারী আবদুল হাই বলেন,‘বেচাকেনা বেশ ভালই চলছে। গত দু’দিন ধরে ক্রেতারা বাজারে আসতে শুরু করেছেন। শনিবার ৬৫ হাজার টাকা দামের একটি গরু বিক্রি করেছেন। সব মিলিয়ে বেচাকেনা মোটামুটি ভাল।’
শাহজাহান মোল্লা নামে কুমিল্লা জেলার লাকসামের এক বেপারী বলেন,‘আমি পাঁচটি গরু নিয়ে মার্কেটে এসেছিলাম। এরমধ্যে দুটি বিক্রি হয়েছে। বাকিগুলোও বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। অপেক্ষায় আছি দেখি কী হয়?’
এদিকে এখনও বাজারে পশুর দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে থাকায় ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে আছেন। তবে আশঙ্কা করছেন গতবারের মত শেষ মুহুর্তে পশুর দাম ধসে যেতে পারে।
এর কারণ হিসেবে চট্টগ্রাম গবাদি-পশু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আবু ইউসুফ মনে করছেন,‘পূজায় সীমান্তের বিভিন্ন করিডোর খোলা থাকবে। এছাড়া এ বছর ভারত থেকে প্রচুর গরু আমদানি হয়েছে। দেশীয় ও ফার্মের গরু তো রয়েছেই। শেষ মুহুর্তে বাজারে চাহিদা থেকে বেশি গরু আসলে দামে ধস নামতে পারে!’ এদিকে বিক্রেতাদের লোকসানের আশঙ্কা থাকলেও ক্রেতারা এখন পর্যন্ত কোরবানীর পশু কিনে খুশি। দাম নিয়েও তারা সন্তুষ্ট।
শনিবার সাগরিকা’র কুষ্টিয়া বাজার থেকে গোলাম মোহাম্মদ রতন নামে একজন ক্রেতা ৩৫ হাজার ৫০০ টাকায় একটি গরু কিনেছেন। সাইফুল ইসলাম নামে আরেকজন কিনলেন ৪৮ হাজার ৩০০ টাকায়। হাসিল দেওয়ার সময় দুজনই বললেন,‘বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় ও মাঝারি ধরনের প্রচুর গরু উঠেছে। তবে মনে হচ্ছে মধ্যম আকারের গরুর চাহিদা বেশি।’
সাগরিকা গরুর বাজারের হাসিল সংগ্রহকারী মো. ইলিয়াস বলেন,‘এবার পশুর দাম খুব বেশি না। সবাই সাধ ও সাধ্যের মধ্যেই তাদের পছন্দের পশুটি কিনতে পারছেন।’ হাসিল সংগ্রহ বিষয়ে তিনি জানান, এবার শতকরা পাঁচ টাকা হারে হাসিল সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে বিবিরহাট গরুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাইজের গরু এসে বাজার পরিপূর্ণ। নির্ধারিত এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের সরু গলিতেও বসেছে গরুর হাট।ছড়িয়ে পড়ছে বাজারের বাইরের বিভিন্ন সড়কেও।
ওই বাজারে টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর থেকে আসা বেপারী আবদুর রহিম জানালেন, বাজার জমেছে। তবে গরুর দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে। ঈদের আগের দু’দিন প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবছর চট্টগ্রাম নগরীতে স্থায়ী দুটি গরুর বাজার (সাগরিকা ও বিবিরহাট) ছাড়াও কোরবানী উপলক্ষে আরও ছয়টি গরুর বাজার বসেছে।
অস্থায়ী বাজারগুলো হলো, কর্ণফুলী গরুর বাজার, সল্টগোলা রেলক্রসিং, স্টীল মিল, পতেঙ্গায় সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, কমল মহাজন হাট এবং পোস্তার পাড় স্কুল মাঠে অস্থায়ী ছাগল বাজার। এসব হাটে গত কয়েক দিন ধরে প্রচুর গরু আসছে এবং বিক্রিও শুরু হয়েছে।
এদিকে এসব গরুর বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা দিতে হাটের ইজারা কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। বাজারে অজ্ঞানপার্টি, পকেটমার থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সচেতন করতে প্রচারণাসহ নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাল টাকা সনাক্ত করণের জন্য প্রতিটি হাটে বসানো হয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের অস্থায়ী বুথ।




