ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
হাওরের উথাল-পাতাল টেউ এখনো আমার অস্তিত্বকে নাড়া দিয়ে যায়। টেউয়ের আঘাতে কত গ্রাম, কত পরিবার নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। আবার কত গ্রাম নতুন করে সৃজন হয়েছে সেই স্মৃতিতে আমি আজও ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি। এভাবেই স্মৃতিচারণ করছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট। তিনি সোমবার কিশোরগঞ্জের হাওর বেষ্টিত উপজেলা অষ্টগ্রামবাসীর দেওয়া গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ স্মৃতিচারণ করেন।
আপনাদের কাছ থেকে অনেক নিয়েছি, ইচ্ছে মতো দিতে পারিনি-এমন আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘হাওর নদী পরিবেষ্টিত কিশোরগঞ্জের এ অঞ্চল ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে পশ্চাত্যপদ। প্রকৃতির সঙ্গে নিরন্তন সংগ্রাম করে এ এলাকার জনগণকে বেঁচে থাকতে হয়। এ এলাকার উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি এলাকাবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা জানেন, যুগে যুগে অনেক নেতা, দেশপ্রেমিক এ জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আমি আশা করব অধিকার বঞ্চিত মানুষের জন্য বিশেষ করে সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য হাত প্রসারিত করতে হাওর এলাকার বিত্তবান ও ধণাঢ্যদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই।
রাজনৈতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই নাই। নীতির প্রশ্নে আপোষ করি নাই। জীবনের শেষ সময়ে দেখতে চাই একটি সুখী সমৃদ্ধশালী গৌরবোজ্জল বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ।’ এসময় তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র বিকাশের মূল শর্ত হলো পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সমূহকেও শক্তিশালীকরণ।’ হাওরবাসীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, গণ সংবর্ধনা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রাক্তন শিক্ষক মাওলানা রৌশন আলী খান আশরাফী।
সভায় বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক, অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ, আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ রাষ্ট্রপতি তনয় রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিক, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শাহ আজিজ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এম এ আফজাল, অষ্টগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, ফজলুল হক হায়দারী বাচ্চু, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মোস্তাক আহমেদ কমল, অষ্টগ্রাম রোটারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তবা আরিফ খান, অষ্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি দেবব্রত চক্রবর্তী, উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি নির্মল চন্দ্র সাহা রায়, উপজেলা জাপা সভাপতি জালাল উদ্দিন প্রমুখ।




