ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
গ্রেফতার ভয়ে প্রকাশ্যে নেই নগর জামায়াতের আমীর সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। একাধিক মামলার আসামি এই দুই জামায়াত নেতাকে গত দুই মাস ধরে সংগঠনের কোনো কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না। এমনকি ঘরোয়া সাংগঠনিক সভাগুলোতেও তারা উপস্থিত থাকছে না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও নগরের আমীর আ ন ম শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ সরকারের মেয়াদে মোট ৮টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ৭টিতে জামিন থাকলেও একটি মামলায় তিনি এখনও জামিন পাননি বলে দলটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে। অপরদিকে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে হয়েছে ১৫টি মামলা যার মধ্যে তিনি জামিনে আছেন ১১টিতে। তিনটি মামলায় তার জামিন মেলেনি।
জামায়াত সূত্র জানায়, মামলার কারণে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় এই দুই শীর্ষ নেতা কেন্দ্রের নির্দেশে প্রকাশ্যে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না। দুজনই বেশিরভাগ সময় কাটান ঢাকায়। এমনকি এই দুই নেতাকে গত দুই মাসে নিজেদের গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ায়ও প্রকাশ্যে দেখা যায় নি।
এ ব্যাপারে জানতে নগর জামায়াতের আমীর সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলামের ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, গত এক বছর ধরে শামসুল ইসলাম তার এ দুটি ফোন নম্বর অচল করে রেখেছেন। তবে নিকট আত্মীয় স্বজন ও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তিনি নতুন ফোন নম্বর ব্যবহার করছেন।
শামসুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল রাতে তার ব্যক্তিগত সহকারী নুরুল আবছার কে বলেন, ‘উনি (শামসুল) শনিবার সিলেটে ১৮ দলের জনসভা থেকে ওই দিন রাতে ঢাকায় ফিরে অসুস্থ হয়ে একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন।’
শামসুল ইসলামের মোবাইল বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নানা কারণে তিনি আগের ফোন দুটি বন্ধ রেখেছেন।’ নতুন মোবাইল নম্বর চাইলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন শামসুল ইসলামের এই পিএস।
অন্যদিকে, সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে গত দুই বছর ধরে। যে কারণে তার সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের একজন দায়িত্বশীল নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘গ্রেফতার ভয়ে তিনি এখন প্রায় সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। গত দুই মাসে সাতকানিয়ায় প্রকাশ্যে তাকে দেখা যায়নি।’
জানতে চাইলে নগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ গতকাল কে বলেন, ‘শামসুল ইসলাম এমপি হওয়ায় সবসময় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান না। শাহজাহান চৌধুরীও নানা কারণে ব্যস্ত থাকেন।’ এই দুই নেতা গ্রেফতার ভয়ে কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে নগর জামায়াতের এই মুখপাত্র তা অস্বীকার করেন।
তবে নগর জামায়াতের আরেক শীর্ষ নেতা অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি আ জ ম ওবায়দুল্লাহ গ্রেফতার ভয়ে শাহজাহান চৌধুরীর মাঠে না থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল রাতে তিনি কে বলেন, ‘কয়েকটি মামলায় শাহজাহান চৌধুরী এখনও জামিন পাননি। উপরের নির্দেশে পুলিশ তাকে সুযোগ পেলেই গ্রেফতার করবে। তাই আমরা উনাকে আপাততে দলীয় কর্মসূচিতে রাখছি না।’
শামসুল ইসলামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শামসুল ইসলামও পুলিশের টার্গেটে আছে। তিনি দলের প্রকাশ্য কর্মসূচিতে না থাকলেও সাংগঠনিক ঘরোয়া বৈঠকগুলোতে উপস্থিত থাকেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় বেশিরভাগ নেতা এখন জেলে থাকায় শামসুল ইসলামকে এখন কেন্দ্রে সময় দিতে হয় বেশি। ’
জানা গেছে, আ ন ম শামসুল ইসলাম গত সেপ্টেম্বরে নগরীর দেওয়ান বাজার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জামায়াতের একটি আঞ্চলিক সমাবেশে অংশ নেওয়া ছাড়া গত দুই মাসে সংগঠনের কোনো কর্মসূচিতে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী নগরীতে জামায়াতের সর্বশেষ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন গত ১৪ জুলাই। ওই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের রায়ের পর বিকালে নগরীর পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় তার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলা চালায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে এক নম্বর আসামি করে মামলা দায়ের করলে তিনি আত্মগোপণে চলে যান।
এই দুই নেতার অনুপস্থিতিতে নগর জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি আ জ ম ওবায়দুল্লাহ ও প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ।
নগর জামায়াতের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা চিন্তা করে কেন্দ্রের নির্দেশে এই দুই শীর্ষ নেতা গ্রেফতার এড়াতে এখন দলীয় কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন না।




