সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......অন্ধকারে রাতের শহর

অন্ধকারে রাতের শহর

ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

নগরীর জুবিলী রোডের তিন পোলের মাথা থেকে লাভ লেইন পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সড়ক বাতি আছে ৫৬টি। এগুলোর মধ্যে জ্বলছে ২৮টি। বাকি ২৮টি নষ্ট। এর মধ্যে এনায়েতবাজার মোড় এলাকায় ৮টি বাতির সবগুলোই নষ্ট। লাভ লেইন থেকে কাজীর দেউড়ি মোড় পর্যন্ত সড়ক বাতি আছে ৩০টি। এর মধ্যে জ্বলছে ৭টি এনার্জি বাল্ব। বাকি ২৩টি নষ্ট হয়ে গেছে।
গতকাল রাত ৯টায় নগরীর সড়ক বাতি ব্যবস্থাপনার এই চিত্র চোখে পড়ে। করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে মাত্র আধা কিলোমিটর দূরে অবস্থিত সড়কগুলো এভাবেই অন্ধকারে থাকে। এসব এলাকায় যেসব সড়ক বাতি জ্বলছে সেগুলোর মধ্যে গাছের ডালপালার কারণে কোথাও কোথাও সড়ক বাতি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কোথাও আবার বাতির গায়ে শ্যাওলা ও ময়লা জমে সড়ক পর্যন্ত আলো এসে পৌঁছায় না। ফলে অন্ধকারেই চলতে হচ্ছে নাগরিকদের।
পুরো নগরজুড়ে বেশিরভাগ সড়কের চিত্র একই। গতকাল রাতে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, চেরাগী পাহাড় থেকে বৌদ্ধ মন্দির মোড় পর্যন্ত এনার্জি বাল্ব আছে ১৩টি। এর মধ্যে জ্বলছে ৮টি। বাকি ৫টির মধ্যে নষ্ট ৩টি। দুই জায়গায় খুঁটি থাকলেও নেই বাতি। বৌদ্ধ মন্দির থেকে ডিসি হিলের পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত ১১টি বাতির মধ্যে ৫টি নষ্ট। থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সামনে ৪টি বাতির সবগুলেই নষ্ট। এসএস খালেদ রোডের কাজীর দেউড়ি থেকে জামালখান মোড় পর্যন্ত ১৯টি বাতির ৯টি নষ্ট। জামাল খান থেকে চেরাগী পাহাড় মোড় পর্যন্ত ২৪টি বাতির মধ্যে জ্বলছে মাত্র ৪টি।
এসব এলাকার বাতি পরিদর্শক জাহেদুল আলম চৌধুরীর কাছে গতরাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, ‘নগরীর অন্য এলাকার চেয়ে তার এলাকায় বাতি বেশি জ্ব্লছে।’ নগরীর অন্য সব এলাকার অবস্থা আরো খারাপ বলে দাবি করেন তিনি।
এ সময় সুনির্দিষ্ট করে বিভিন্ন স্পটের লাইট নষ্ট কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাজীর দেউড়ি থেকে লাভ লেইন এলাকায় গাছের জন্য নতুন বাতি লাগানো যাচ্ছে না। আবার অনেক এলাকায় লাগানো গেলেও বৃষ্টি এবং যানবাহন সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।’
করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর সড়কগুলো অন্ধকারে থাকার বিষয়টি স্বীকার করা না হলেও বাস্তবের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। গতকাল রাতে চেরাগী পাহাড়-বৌদ্ধ মন্দির-থিয়েটার ইন্সটিটিউট-তিন পোলের মাথা-লাভ লেইন-কাজীর দেউড়ি মোড়-জামালখান হয়ে চেরাগী পাহাড় পর্যন্ত সরেজমিন পরিদর্শনে বিভিন্ন ধরনের ১৫৭টির মত সড়ক বাতি চোখে পড়ে। এসব বাতির মধ্যে ৯৪টিই নষ্ট।
শুধু এসব এলাকা নয় গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, খুলশী, দেওয়ানহাট, পাহাড়তলী, বারেক বিল্ডিং, আগ্রাবাদ, কদমতলী, টাইগারপাস, লালদীঘি, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে সড়ক বাতির বেহাল দশা চোখে পড়ে। বছরের পর বছর সড়ক বাতির জন্য কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসহ বেশিরভাগ এলাকার সড়কগুলো অন্ধকারেই থেকে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পুরো অংশই রাতের বেলা অন্ধকারে থাকে। এসব সড়কের কোনো কোনোটিতে সড়কবাতি লাগানো হলেও তা নষ্ট হয়ে গেছে। পরে আর নতুন করে লাগানো হয়নি। আবার কিছু সড়কের আংশিক অন্ধকারে থাকছে। এসব সড়কে সড়ক বাতির জন্য খুঁটি থাকলেও নেই সড়কবাতি। ফলে রাত হলেই অন্ধকার হয়ে যায় এসব এলাকা। কোথাও কোথাও বড় গাড়ির আলোতে রিকশাসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারলেও যেসব সড়কে বড় গাড়ি কম চলে সেখানে রাতের বেলা চলা দায় হয়ে পড়ে।
করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে সড়কবাতি আছে ৩৫ হাজারের বেশি। এগুলোর মধ্যে টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব, সোডিয়াম লাইট ও বিভিন্ন ধরনের মেটাল হ্যালাইড রয়েছে। এসব বাতি নষ্ট হলে বা ভেঙ্গে গেলে করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুনরায় লাগানোর কথা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সোডিয়াম লাইট লাগানোর জন্য দু’টি গাড়ি রয়েছে। এছাড়া ৪টি লিফটও রয়েছে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সড়কগুলোকে আলোকিত রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের সড়ক বাতি লাগানোর কথা।
অভিযোগ রয়েছে, সব ধরনের সক্ষমতা থাকার পরও করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে সড়কগুলোতে ঠিকমত বাতি লাগানো হয় না। নষ্ট হয়ে গেলে মেরামতও করা হয় না। ফলে সন্ধ্যার পরেই নগরীর সড়কগুলো অন্ধকারে ডুবে হয়।
এ ব্যাপারে জানতে করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহফুজুল হকের মোবাইলে গতকাল রাতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সহকারী প্রকৌশলী এম এ হাশেম’র কাছে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে অনেক বাতি নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া অনেক সড়কে রাস্তার কাজ চলার কারণে নতুন করে বাতি লাগানো সম্ভব হচ্ছেনা।’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ