রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়স্ত্রীর পরকীয়া : বরিশালে জোড়া খুন

স্ত্রীর পরকীয়া : বরিশালে জোড়া খুন

ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

স্ত্রী সুখী বেগমের সাথে ভাইয়ের ছেলে সোহেল হাওলাদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠা ও এলাকায় শিশু কন্যার জন্মনিয়ে নানা গুঞ্জন ওঠায় নিজ স্ত্রী ও তিন মাসের শিশু আকলিমাকে হত্যা করে ভ্যানচালক খোকন হাওলাদার। বরিশাল নগরীর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সামসুদ্দিন। তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত খোকন হাওলাদারকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়নি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ঢাকা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর নিজ স্ত্রী ও শিশুকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে অকপটে স্বীকার করেন খোকন। এদিকে অভিযোগ অনুযায়ী খোকনের ভাইয়ের ছেলে সোহেল হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার পাংশা গ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া খোকনের বরাত দিয়ে কমিশনার সামসুদ্দিন আরো বলেন, সুখী বেগমের সাথে তার ভাইয়ের ছেলে সোহেল অবৈধ মেলামেশা করতো। এমনকি খোকনের তিন মাসের শিশু আকলিমাও খোকনের ঔসরজাত নয় বলে সোহেল সকলের কাছে বলে বেড়াতো। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করে খোকন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সুখী বেগম ও শিশু আকলিমাকে তার বাবার বাড়ি উজিরপুর উপজেলার কাংশি গ্রাম থেকে বিমানবন্দর থানার আওতাধীন বাবুগঞ্জের পাংশা গ্রামের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে খোকন। রাত দুইটার দিকে প্রথমে ঘুমন্ত সুখীর মাথায় কাঠ ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে সে। পরে সুঁচালো ফুরনি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে খুচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে খোকন কাগজ কাটার দিয়ে সুখীর পেট কেটে ফেলে। স্ত্রীকে হত্যার পর পাশে ঘুমিয়ে থাকা শিশু আকলিমার দিকে তাকালে তার সোহেলের কথা মনে পড়ে। এতে সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে কাটার দিয়ে আকলিমার গলা কেটে হত্যা করে।
হত্যাকান্ডের পরেরদিন সকালে কৌশলে সে ভোলা হয়ে লঞ্চযোগে গাজীপুরের এক আত্মীয়র বাসায় যায়। পথে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কাগজ কাটারটি সে ভোলার মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়। পরে গাজীপুর থেকে কাজের সন্ধানে গত ৪ অক্টোবর ঢাকায় আসে। ওইদিন উত্তর বাড্ডা সুবাস্তু নজরভ্যলী টাওয়ারের সম্মুখ থেকে পুলিশ খোকনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ কমিশনার আরো জানান, খোকনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তার ঘর থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত লোহার রড়, কাঠের টুকরা ও সুঁচালো ফুরনি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া অভিযোগ অনুযায়ী খোকনের ভাইয়ের ছেলে সোহেল হাওলাদারকেও আটক করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাদের দু’জনকে মুখোমুখী করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও তিনি জানান। উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খোকন হাওলাদার তার স্ত্রী সুখী বেগম (২৫) ও তিন মাসের শিশুকন্যা আকলিমাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরেরদিন সকালে বিমানবন্দর থানা পুলিশ দু’জনের লাশ উদ্ধার করে। ওইদিন রাতেই নিহত সুখীর ভাই মিন্টু হাওলাদার বাদি হয়ে খোকন ও অজ্ঞাতনামা আরো তিনজনকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ