শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদইন্টারভিউগ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে এ আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া । সংসদের চলতি অধিবেশনেই আইনটি পাস হবে বলে জানা গেছে। সরকার চায় চলতি মেয়াদেই আইনটি পাস করতে।

সূত্র জানায়, দেশে কার্যরত অন্য ব্যাংকের মতোই গ্রামীণ ব্যাংককেও জবাবদিহি করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান নিয়োগের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিয়ে এ দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত গ্রামীণ ব্যাংক কোম্পানি আইন-২০১৩-এর খসড়ায় এসব বিধান রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১-এর প্রয়োগও করতে পারবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংককে এত ক্ষমতা দিলেও গ্রামীণ ব্যাংকের আইন সম্পর্কিত কার্যাবলী সরকার নিজের অধীনেই রেখে দিচ্ছে। অর্থাত্ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক হলেও বিধিমালা, আইন সংশোধন বা সংযোজনের জন্য সরকারের দ্বারস্থ হতে হবে। এ কাজটি আগে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড করত। এখন থেকে এটি অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ করবে। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কিছু বিষয়ে সরকারের কর্তৃত্ব বহাল রাখা হবে। এর মাধ্যমে মূলত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের প্রচলিত যে কোনো ব্যাংকের মতোই গ্রামীণ ব্যাংকের অনিয়ম তদন্তসহ যে কোনো কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ দিতে পারবে। শুধু তাই নয়, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় শাস্তির বিধানও করতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে ‘ব্যাংক’ শব্দটি থাকার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে এটি ছিল না। কারণ, বিদ্যমান গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-১৯৮৩-তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। অর্ডিন্যান্সে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অনুমতি লাগবে না। শুধু শাখা খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমতি দিতে পারবে। এছাড়া ব্যাংক কোম্পানির ৪৪ ও ৪৫ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-১৯৮৩ রহিত করে গ্রামীণ ব্যাংক আইন-২০১৩ নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আইনে গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয়া হচ্ছে। এজন্য গ্রামীণ ব্যাংককে নিয়ন্ত্রণে যত ক্ষমতা দরকার, তার সবই বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয়া হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১-এর প্রয়োগও করতে পারবে। অর্থাত্ কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তার সবকিছুই করতে পারবে।
প্রস্তাবিত গ্রামীণ ব্যাংক আইন-২০১৩-এ বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের সুবিধা, অসুবিধা সবকিছু দেখবে। বিরোধ দেখা দিলে তাও নিষ্পন্ন করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের দুর্বলতা, সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানও করতে পারবে। আবার, গ্রামীণ ব্যাংকে কোনো অনিয়ম দেখা দিলে প্রয়োজনে তদন্তও করতে পারবে। তবে তদন্তের আগে অভিযোগের বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জবাবদিহিতার বিষয়টি পরিপূর্ণ পাওয়ার জন্য নিয়ম মেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদনও দাখিল করতে হবে গ্রামীণ ব্যাংককে। প্রয়োজন মোতাবেক মাসিক বা ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনও দাখিল করতে হবে।
প্রস্তাবিত আইনে গ্রামীণ ব্যাংকের কর অবকাশ সুবিধা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক এখন থেকে কর অবকাশ সুবিধা পাবে। অবশ্য গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের বলে গ্রামীণ ব্যাংক বর্তমানে কর অবকাশ নয়, বরং কর অব্যাহতির সুবিধা পেয়ে আসছে। এ আইনটি আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
এএইচএম এরশাদের সামরিক শাসনামলে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-১৯৮৩ জারি করা হয়। হাইকোর্ট সামরিক শাসনামল অবৈধ ঘোষণা করায় ওই আইনটিও অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে নতুন করে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০১৩ নামে আইনের খসড়া তৈরি করা হয়। নতুন আইনটি বাংলা ভাষায় তৈরি করা হচ্ছে। তবে এ আইনটির খসড়া প্রণয়নের ক্ষেত্রে পুরনো অধ্যাদেশ আমলে নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ