আগামী ২৪ অক্টোবরের আগেই গুরুত্বপূর্ণ নথি নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সরকার প্রতিশ্রুত নির্বাচনী প্রকল্পের কাজও সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যে সব গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন এখনো প্রক্রিয়াধীন, সেগুলোর কার্যক্রমও দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া সরকারের গত পৌনে পাঁচ বছরের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিবরণ জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সচিব সভায় এ নির্দেশনা দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা। বৈঠকে সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচিবসভায় উপস্থিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব(মন্ত্রিসভা ও রিপোর্ট) ইসতিয়াক আহমদ বলেন, সরকারের শেষ মেয়াদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি সর্ম্পকে তাগিদ দিতেই এ বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছিলো। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি সংক্রান্ত বৈঠকগুলো সাধারণত আমিই করে থাকি। সেখানে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ উপস্থিত থাকে না। আজকের বৈঠকটি ছিল ব্যতিক্রম। যেহেতু সরকারের শেষ সময়, এ কারণে সকল সচিবদের নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিজেই বসেছিলেন আজ। বৈঠকে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন সম্পন্ন এবং নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সচিব এ বিষয়ে বলেন- গত ২ সেপ্টেম্বর সচিবসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন-সরকার ২৪ অক্টোবরের পর রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী কোন সিদ্ধান্ত নেবে না। এ কারণে ওই সময়ের আগেই প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ আইন ও উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রোববারের সচিবসভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব একই ধরনের নির্দেশনা দেন। মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার যে সব প্রকল্প এখনো সমাপ্ত হয়নি তা দ্রুত শেষ করা ও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিসংখ্যানও জমা দিতে বলা হয়েছে। যা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে বার্ষিক প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশে ফিরেই এ বিষয়ের অগ্রগতি জানতে চাইবেন। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক না হলেও আগামী বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে সরকারের চলতি মেয়াদে উন্নয়ন কর্মকা- সম্পর্কে একটি পরিসংখ্যান চাইবেন। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার আগেই এ সচিবসভার আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সরকারের শেষ সময়ে প্রশাসনে চলছে ফাইল গুটানোর কাজ। সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন খতিয়ান। পাশাপাশি চলছে হাতের কাজগুলো দ্রুত শেষ করার তাগিদ। ইতিমধ্যেই গত পৌনে পাঁচ বছরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের অধীনে বাস্তবায়ন হওয়া সব কাজের খতিয়ান জমা দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, দফতর ও অধিদফতরে চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি অধীনস্থ সব বিভাগে পাঠিয়েছে। ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীনে গত পৌনে পাঁচ বছরে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে, তা এক মাসের মধ্যে অতি গোপনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে।
একজন সচিব চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি কোনো ফাইল গুটানো নয়, মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন। চিঠি পাওয়ার পর অনেক কর্মকর্তা মন্ত্রীদের অধীন কাজের অগ্রগতি ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছেন। আবার অনেক মন্ত্রণালয় নতুন নতুন প্রকল্প তৈরি করছে। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এখন একই অবস্থা। সবাই এখন ওই বিশেষ প্রতিবেদন তৈরিতে ব্যস্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব বলেন, আমাদের দায়িত্ব সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি ও বার্ষিক প্রতিবেদন দেয়া। তার জন্য সবাইকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। একে ফাইল গুটানো বলা যায় না।
জানা গেছে, মেয়াদের মধ্যেই পদ্মাসেতুর বিষয়ে একটি ইতিবাচক ফলাফল চায় সরকার। যোগাযোগমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকতাকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেতু বিভাগের সচিবকেও দেয়া হয়েছে বিশেষ দায়িত্ব। জানা গেছে, ক্ষমতা ছাড়ার আগে কমপক্ষে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করে যেতে চায় সরকার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তার দপ্তরে জমে থাকা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের সব ধরনের আবেদন ও সুপারিশ নেয়া ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন শুধু দুর্যোগকালীন বরাদ্দ দেয়া হবে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়েও একই অবস্থা শুরু হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিমও তাঁর মন্ত্রণালয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বসে নেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।
সবাই নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে থাকা বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।




