চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
প্রার্থী মনোনয়ন দিতে নগরীর চার আসনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী শনিবার মতবিনিময় সভা করলেও তাতে যোগ দেননি ওই চারটি আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যদের কেউই। তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরাও এ সভা বর্জন করেন।
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ১৬ টি আসনের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পরামর্শ নেবেন। এরই প্রস্তুতি হিসেবে দুপুরে নগরীর চার আসনের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে মুসলিম হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আওয়ামী লীগের মোট ১৬ জন নেতা আগামী সংসদ নির্বাচনে নগরীর চারটি আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে এসব আসনের বর্তমান এমপিরা এ সভায় উপস্থিত না হওয়ায় তাদের প্রার্থিতা ঘোষিত হয়নি।
এদিকে মতবিনিময়কালে নগর আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নিজে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এর আগে সিটি কর্পোরেশনের একটি মতবিনিময় সভায় তিনি আগামী মেয়র নির্বাচনেও প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দেন। তখন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিলো যে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতেই মহিউদ্দিন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সেই গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিলেন মহিউদ্দিন নিজেই।
মতবিনিময় সভায় মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি সংসদ নির্বাচন করবো বলে অনেকে ভয় পাচ্ছেন। ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। মহিউদ্দিনের প্রার্থিতার প্রয়োজন নেই। পদের প্রয়োজন নেই। জনগণের ভালোবাসা নিয়ে আমি বেঁচে থাকতে চাই।
তিনি বলেন, দল যেখানে নির্বাচনের জন্য কাজ করতে বলবে এবং যাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে তাকে বিজয়ী করতে কাজ করবো। গত নির্বাচনেও সব প্রার্থী আমার পছন্দের ছিলো না । এরপরও দলের স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমি তাদের পক্ষে কাজ করেছি। এবারও দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাবো।
মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, কেউ কেউ তৃণমূলের এই মতবিনিময়কে চাপিয়ে দেয়া বলে অভিযোগ করেছেন। এটা চাপিয়ে দেয়া নয়। এখানে কারো মতামতকে আগ্রাহ্য করা হচ্ছে না। অনেকে সময় পেয়েছেন বলে এসেছেন, অনেকে আসেননি। সমস্যা নেই দলের পক্ষ থেকে যাকেই প্রার্থী দেয়া হোক না কেন নৌকার পক্ষে কাজ করে বিজয় উপহার দেয়া হবে।
এদিকে এবারও আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের পক্ষ থেকে নগরীর চার আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যরা। এদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম- ৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের মহাজোটভূক্ত জাসদের কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল, চট্টগ্রাম-৮( কোতোয়ালি-বাকলিয়া ) আসনের নুরুল ইসলাম বিএসসি, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলি) আসনের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের এম এ লতিফ।
এ চারজনের মধ্যে মাঈনুদ্দিন খান বাদল ছাড়া বাকি তিনজনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালি নেতা। এদের সঙ্গে মহিউদ্দিন চৌধুরীর দলীয় নানা বিষয় নিয়ে কোন্দল চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সেই কোন্দলের জেরে সভায় এদের কেউই উপস্থিত হননি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আর এ নিয়ে নির্বাচনের আগে কোন্দল আরো প্রকট হয়ে উঠতে পারে বলে নেতাকর্মীদের ধারণা।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে দূরত্ব বজায় রেখেই নগরের তিন নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসি, ডা. আফসারুল আমিন ও এমএ লতিফ তাদের নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ, নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি একেএম বেলায়েত হোসেন, নঈম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সুজন, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম ও রেজাউল করিম চৌধুরী।
সভায় নগরীর চারটি আসনের জন্য মোট ১৬ জন আওয়ামী লীগ নেতা তাদের প্রার্থিতার ঘোষণা দেন।




