আগামী মাসের প্রথম দিন থেকেই ঢাকা-কলকাতা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইন্ডিগো। প্রতিদিন এ রুটে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে তারা। রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় বেসরকারি এয়ারলাইনারটি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা-কলকাতা রুটে ওয়ানওয়ে ‘প্রমোশনাল’ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩১ টাকা। আর রিটার্ন টিকিটের ভাড়া হবে ৭ হাজার ৮৫ টাকা। তবে পরবর্তী সময়ে ভাড়ার হার পরিবর্তন হতে পারে। নিজেদের বহরের এ৩২০ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে যাত্রী পরিবহন করবে ইন্ডিগো।
ইন্ডিগোর চিফ স্ট্র্যাটেজিক অফিসার উইলিয়াম বোল্টার সাংবাদিকদের বলেন, ১ আগস্ট থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তাদের ফ্লাইট কলকাতার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবে এবং রাত ৮টায় তা কলকাতায় পৌঁছবে। অন্য ফ্লাইটটি কলকাতা থেকে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে যাত্রা করে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছবে। তিনি জানান, আসন সংখ্যার প্রায় অর্ধেক টিকিট প্রমোশনাল ভাড়ায় পাওয়া যাবে। ইন্ডিগোর ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে টিকিট বুকিং দেয়া যাবে। এছাড়া ট্রাভেল এজেন্টদের কাছ থেকেও টিকিট কেনা যাবে। যাত্রীরা লাগেজে ২০ কেজি ও হাতে সাত কেজি পর্যন্ত মালপত্র বহন করতে পারবে।
ভবিষ্যতে ঢাকা থেকে ভারতের অন্যান্য শহর এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকেও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানান উইলিয়াম বোল্টার। তিনি বলেন, আমরা চাই যাত্রীদের আস্থা ও ভালোবাসায় নিজেদের যুক্ত রাখতে। ভারতে এক যুগ সেবা দেয়ার পর বাংলাদেশে স্বল্পতম খরচে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে দুই দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাক— এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে চাহিদা বিবেচনা করে দুই দেশের সরকার চাইলে ঢাকা থেকে ভারতের অন্যান্য গন্তব্যেও ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এছাড়া চাহিদা থাকলে চার-পাঁচ বছর পর ভারত থেকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামেও ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ঢাকা-কলকাতা রুটে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের রিটার্ন টিকিটের ন্যূনতম ভাড়া সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এছাড়া বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের রিটার্ন টিকিটের মূল্য সাড়ে ১০ হাজার টাকা, নভোএয়ারের ৯ হাজার ৯৯৯ টাকা ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ১০ হাজার টাকা।
ঢাকায় ফ্লাইট চালুর মধ্য দিয়ে নবম আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রা করতে যাচ্ছে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিগো। ২০১৮ সালে আটটি আন্তর্জাতিক ও ৪২টি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে তারা ৪ কোটি ৬০ লাখ যাত্রীকে সেবা দিয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সপ্তম।




