পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ (বিডিসময়২৪ডটকম)
পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকি-মির্জাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শাজাহান মিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাঁর স্ত্রী মমতাজ শাজাহান জেলা মহিলা লীগের সভাপতি।
মেজ ছেলে তারিকুজ্জামান মনি শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ছোট ছেলে প্রবাসী আরিফুজ্জামান রনি দখলে রেখেছেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের পদটি। ভাইয়ের ছেলে মো. কালাম মৃধাকে দেওয়া হয়েছে সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ। একই সঙ্গে কালাম শহরের আক্কেল আলী কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর ভায়রা নান্না মিয়ার ছেলে ফোরকান সিকদার।
এভাবে প্রতিমন্ত্রী পুরো জেলায় সংগঠনের মধ্যে পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছেন। দল ও এর অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসিয়েছেন আত্মীয়দের। এসব ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা ও সংগঠনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ। শুধু তাই নয় বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পর্য়ন্ত গড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পটুয়াখালী জেলার তৃণমূল প্রতিনিধিদের বৈঠক ছিলো। পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দু্ইটি কমিটি রয়েছে। বৈঠকে এক কমিটির সভাপতি ডা. শফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন। তখন প্রধানমন্ত্রী ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শাহজাহানকে বলেন, বিষয়টি মিটেয় ফেলেন। এক শাখায় দুইটি কমিটি কেন। জানা গেছে, পৌর কমিটির অন্যটির মধ্যে রয়েছে ধর্মমন্ত্রীর ছেলে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে দল ক্ষমতা গ্রহণের পর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিজ কব্জায় নেন শাজাহান। এলাকার মির্জাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী শাজাহানের সদ্য প্রয়াত ভগি্নপতি কাজী মোকলেছুর রহমান। ওই শূন্য পদে প্রতিমন্ত্রীর ছোট ছেলে রনির শ্বশুর মির্জাগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান গাজী আতাহার উদ্দিনকে আসীন করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। ওই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পদে রয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর ভাইয়ের ছেলে কালাম মৃধার শ্যালক মো. নেছার গাজী। একই সংসদীয় এলাকা দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বানানো হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর ফুফাতো ভাই আনোয়ার হোসেনকে।
চাচাতো ভাই অধ্যাপক আবদুস সালাম জেলা রেডক্রিসেন্টের সভাপতি। আরেক চাচাতো ভাই আবদুল কুদ্দুস মৃধা শহরের শেরেবাংলা বালিকা বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাজাহান শহরের আবদুল করিম মৃধা কলেজ, দুমকি জনতা কলেজ ও মৌকরণ বিএলপি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর কাছে একাধিক বার মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার একান্ত সচিবের কাছেও একাধিকবার ফোন করা হয়েছে। তিনি ফোন ধরেননি।



