চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
আবদুল খালেক ভাটিয়ারি থেকে নগরের নিউমার্কেটে ঈদের জন্য শপিং করতে এসেছেন। ভাটিয়ারি থেকে আসার সময় তাকে নামতে হয়েছে কদমতলী মোড়ে, সেখান থেকে রিকশায় চড়ে মার্কেটে। শপিং শেষে আবার রিকশায় চড়ে কাজির দেউড়ি এসে গাড়িতে উঠতে হয়েছে তাকে।
এ বিড়ম্বনা শুধু আবদুল খালেকেরই নয়, নগর বা এর বাইরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন নিউমার্কেট, রেয়াজউদ্দিন বাজার, জহুর হকার্স মার্কেট ও গোলাম রসুল মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা হাজারও মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নিউমার্কেটমুখি গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় এ দুর্ভোগ।
যানজট কমাতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলেও যানজটের প্রধান কারণ রিকশা বলেই অভিমত দিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ, গাড়িচালক ও সাধারণ যাত্রীরা। তাদের মতে, রাস্তার বাম দিক দিয়ে রিকশা চলাচলের কথা থাকলেও তা সড়কজুড়ে চলে। আর এতে বাড়ে যানজট। আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কাজের খোঁজে নগরে এসেই তারা পেশা হিসেবে রিকশা চালানোকে বেছে নেয় তারা। এসব চালক ট্রাফিক নিয়মকানুন না জানায় দুর্ঘটনাও হচ্ছে হরদম।
নিউমার্কেটমুখি গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার কথা শুনে বিশিষ্ট ট্রাফিক বিশেষজ্ঞ ও পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সম্পাদক প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, রিকশার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করার কোনো মানে হয় না। বিশ্বের সব দেশেই গণপরিবহনকে বেশি সুযোগ দেওয়া হয়। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে ধীরগতির বাহনকে চলাচলের সুযোগ বেশি দিলে দুর্ভোগ বাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেই। এছাড়া ফুটপাত বেদখল হওয়ায় মানুষ হাঁটতে না পেরে রিকশায় চড়ছে।’
এ বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) কুসুম দেওয়ান বলেন, ‘রিকশার অনুমোদন দেয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। তাই রিকশার গতিপথকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, বন্ধ করতে পারি না।’
নিউমার্কেটমুখী গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘গত কয়েকবছর ধরে রমজানে আমরা নিউমার্কেটকেন্দ্রিক যানজট নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছি, সে হিসেবে এবারও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে রিকশা বা গণপরিবহন দুটোর একটি বন্ধ করলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
এদিকে নগরে কী পরিমাণ রিকশা রয়েছে তার বৈধ পরিসংখ্যান নেই রিকশা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা চসিকের কাছেও। তাদের হিসাবে, নগরে ৩৫ হাজার রিকশা থাকলেও দেড় থেকে তিন লাখ রিকশা চলাচল করছে বলে জানা গেছে। এর সাথে নতুন উপদ্রব হিসেবে যুক্ত হয়েছে মটরচালিত রিকশা। এসব রিকশার কারণে যানজট বাড়ছে স্বীকার করে চসিক মেয়র এম মনজুর আলম বলেন, ‘ঈদের আগে আমরা রিকশা উচ্ছেদ অভিযান চালাবো না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ঈদের পর এসব রিকশা উচ্ছেদ করে সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা হবে।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে নিউমার্কেটমুখী গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।




