চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
চট্টগ্রামের সাড়ে ৬ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের সবাইকে প্রি-পেইড মিটার সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নগরীর প্রায় দেড় লাখের মতো গ্রাহককে আগামী বছর জানুয়ারি থেকে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। এসব মিটারের কার্যক্রম বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। বিদ্যুতের প্রকৃত ব্যবহারের আগেই বিল আদায় ছাড়াও গ্রাহক এবং পিডিবি উভয়ের ভোগান্তি রোধে সরকার আবারও এই প্রি-পেইড মিটার সিস্টেম চালু করছে। এর আগে ২০০৮ সালে পিডিবি’র পাইলট প্রকল্পের আওতায় সীমিত আকারে চট্টগ্রামের প্রায় ২০ হাজারের মতো গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছিল।
পিডিবি জানিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে সারাদেশে ২২ লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রামে শুরু করা হবে এই মিটার স্থাপনের কাজ। চট্টগ্রামে স্থাপন করা হবে এক লাখ ৩৯ হাজার মিটার। এভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সকল সাধারণ পোস্ট পেইড মিটার তুলে নিয়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছে পিডিবি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। বিদ্যুৎ বিভাগের সব বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রি-পেইড মিটার কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য ইউনিফাইড প্রি-পেইড মিটার সফটওয়্যার তৈরির কার্যক্রম এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি টাকা। এসব মিটার তৈরিতে সহায়তা করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের মতো সারাদেশে বর্তমানে প্রচলিত পোস্ট পেইড মিটার তুলে দিয়ে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হবে। প্রি-পেইড মিটারে যেতে পারলে পিডিবি অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। ফলে কমবে গ্রাহকদের ভোগান্তিও। দেখা যায়, অনেকে শুধু বাতি ও ফ্যানের লোড নিয়েছেন। কিন্তু বাসায় ফ্রিজ ও এসি লাগিয়েছেন। এতে করে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় ওভারলোডের কারণে ট্রান্সমিটার বিকল হয়ে পড়ে। প্রি-পেইড মিটারে যেতে পারলে কোনো গ্রাহকই অনুমোদনের বেশি বিদ্যুৎ লোড নিতে পারবেন না। নির্ধারিত কিলোওয়াট লোড নিয়ে অধিক ব্যবহার করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ হয়ে যাবে। গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা, সিস্টেম লস, চুরি ও বিল বকেয়া রোধে এই পদ্ধতিটি বেশ কার্যকর। এছাড়া অগ্রিম বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে বাধ্যবাধকতা থাকায় গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ব্যবহারের উপর সাশ্রয়ী হবেন। ফলে লোড ম্যানেজমেন্ট করা সহজ হবে। এর আগে ২০০৮ সালে পিডিবি পাইলট প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামে প্রায় ২০ হাজারের মতো প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করেছিল। পরে ২০০৯ সালের দিকে এসে সরকার প্রকল্পটির কাজ বন্ধ করে দেয়। গত বছর এই প্রকল্পটি পুনরায় চালুর পর ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটির ব্যাপারে যাবতীয় কাগজপত্রের কাজ আগামী সেপ্টেম্বরের দিকে শেষ করার পর দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে আগামী বছরের জানুয়ারির দিকে চট্টগ্রামের এক লাখ ৩৯ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করবে বিপিডিবি।
এদিকে এর আগে চট্টগ্রামে যেসব গ্রাহক প্রি-পেইড মিটার সুবিধা নিয়েছিল তারা বলেছেন, ‘প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কারণে তারা ভূতুড়ে বিলের আতংকে থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এখন বিদ্যুৎ ব্যবহারের উপর তাদেরকে বিল দিতে হচ্ছে। আর যারা এখনও পোস্ট পেইড মিটার ব্যবহার করছেন তাদের অধিকাংশই বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বহন করছেন প্রতি মাসে। পোস্ট পেইড মিটার ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল তৈরির ব্যাপারে পিডিবি’র অস্বচ্ছতার প্রশ্নও তুলেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টমেট্রো (পশ্চিম) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উদয় শেখর দত্ত বলেন, ‘ঢাকা থেকে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পিডিবি এবং গ্রাহকরা উভয়েই এর সুবিধা পাবে। ভোগান্তি কমে আসবে। আগে যেমন বিদ্যুৎ বিল নেয়া হতো প্রতি দু’মাস পর পর । এই প্রকল্পটির দ্বারা আগেই গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল নেয়া যাবে।’
পিডিবি’র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘চট্টগ্রামে বর্তমানে প্রি-পেইড মিটারের সুবিধা পাচ্ছে প্রায় ২০ হাজারের মতো গ্রাহক।’
স্বীকার করে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)’র প্রি-পেইড মিটার স্কিমের প্রকল্প পরিচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘প্রি-পেইড মিটার কার্যক্রম থেমে নেই। বর্তমানে আমাদের প্রকল্পের যাবতীয় কাগজপত্রের কাজ চলছে। সব কিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে আগামী বছর জানুয়ারির দিকে আমরা চট্টগ্রামের গ্রাহকদের জন্য প্রি-পেইড মিটার সিস্টেম স্থাপন করতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ২০০৯ সালে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে গত বছর পুনরায় এটি চালু করা হয়।’
প্রি-পেইড মিটারে সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই আছে বিশেষ করে বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীর। এ বিষয়ে জিইসি মোড়ের বিচিত্রা ফটোস্ট্যাটের মোসলেম উদ্দীন বলেন, ‘আমি প্রি-প্রেইড মিটার বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করি। প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে আমার রিচার্জ করতে হয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর টাকা শেষ হয়ে গেলে অনেক সময় রাজনৈতিক অস্থিরতায় হরতালের কারণে রিচার্জ সেন্টারগুলো বন্ধ থাকে বলে আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ শেষ হয়ে গেলে গ্রাহকদের জন্য বর্তমানে পিডিবি থেকে ৯০ টাকার মতো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করার সুবিধা থাকে। এটা আবাসিক গ্রাহকদের জন্য যথেষ্ট হলেও যারা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছেন তাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই পিডিবি যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণটি বাড়িয়ে দেয় তাহলে সবার জন্য সুবিধা হবে।’




