প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) বলেছেন, দেশের আদালতগুলোতে ৩০ লাখ মামলার জট রয়েছে। এ জট কমাতে দীর্ঘসূত্রতা, বিচারকসহ যাবতীয় লজিস্টিক সমস্যা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মামলাজটের একটি পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেছেন, দিন দিন মামলার জট বেড়ে চলেছে। এই জট কমাতে প্রয়োজন যথেষ্ট বিচারক এবং লজিস্টিক সাপোর্ট।
তিনি বলেন, দেশের আদালতগুলো প্রায় ৩০ লাখ মামলার জট বয়ে বেড়াচ্ছেন। এর ৬০ শতাংশ মামলাই হলো ভূমি সংক্রান্ত মামলা। বিশেষত দেওয়ানি বিচার পদ্ধতি অসংখ্য মামলার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মাসিক লিগ্যাল এইড আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। সেমিনারে দেশের নিম্ন আদালতে কর্মরত জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
আদালত প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি বলেন, সনাতনি পদ্ধতিতে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক অবকাঠামো, বিচারক স্বল্পতা, আইনজীবী ও আদালতের প্রতি অবিশ্বাসসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঠিকমতো অফিসে আসেন না। দুপুর দুইটার পর অনেক আইনজীবীকেও দেখা যায় না। স্পেশাল কোর্টের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নাই।
তিনি বলেন, জেলা জজ ও সমপর্যায়ের অনুমোদিত ১৮৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ২৯টি পদ শূন্য আছে। অতিরিক্ত জেলা জজের ১২টি পদ, যুগ্ম জেলা জজের ১৩০টি পদ, সিনিয়র সহকারী জজের ৭৩টি ও সহকারী জজের ২১৩টি পদ শূন্য রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এছাড়া আদালত কক্ষের অভাবে একটি কক্ষে দুই জন বিচারককে বিচারিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। একজন সকালে বসলে আরেকজনকে বিকালে বসতে হচ্ছে। এতো সব সংকট নিয়ে কিভাবে এ বিশাল মামলার জট কমানো সম্ভব? তিনি বলেন, মামলার জট কমাতে আমাদের এ ধরনের নানাবিধ স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও সব কাটিয়ে উঠতে হবে।
মাসিক লিগ্যাল এইডের সম্পাদক খাজা গোলাম মোর্শেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি নাঈমা হায়দার। স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হাসান আরিফ। সেমিনারে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।




