মহানগরীর মতিহার থানার কাটাখালী এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী জুট মিলের সামনে রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মতিহার থানা পুলিশ ও রাজশাহী সদর দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়। এ সময় প্রায় আধা ঘণ্টা ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে রাজশাহী কলেজের ছাত্রীবাহী বাসটি পুঠিয়ার বানেশ্বরের দিকে যাচ্ছিল। আর ইসলাম পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাসটি সিরাজগঞ্জ থেকে রাজশাহী আসছিল। কাটাখালি জুটমিলের সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস দু’টির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। রাজশাহী সদর দমকল বাহিনীর সহকারী পরিচালক আহসানুল কবীর জানান, তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দু’টি ইউনিট পাঠান। পুলিশের সহায়তা নিয়ে গুরুতর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে তাদের গাড়িতেই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে বাকিদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে কেউ মারা যাননি বলে নিশ্চিত করেন এ কর্মকর্তা।
এদিকে, রামেক হাসপাতালে ভর্তি করার পর দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ৩ ছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে রামেক হাসপাতাল পরিচালক রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন তাদের মৃত্যুর এ তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। ওই ছাত্রীদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের শবাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কাটাখালির রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে যানবহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাসপাতলে ছুটে যান। এ সময় তিনি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আহত ছাত্রীদের জরুরি চিকিৎসা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। হাসপাতালে তার সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিতি ছিলেন।




