তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। এতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান, যার প্রায় ৮০ শতাংশই গ্রামীণ নারী। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ফলে দেশের দারিদ্র্য দ্রুত কমে আসছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পোশাক খাত প্রসারের ফলে সার্বিক সেবাখাত বিকশিত হয়েছে। অগ্র ও পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প গড়ে উঠেছে। রপ্তানিমুখী কম্পোজিট টেক্সটাইল শিল্প গড়ে উঠায় তৈরি পোশাকে দেশীয় মূল্য সংযোজনও বেড়েছে। দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। তৈরি পোশাক শিল্পে তার সরকার আর্থিক প্রণোদনা ও নীতি-সহায়তা দিয়ে আসছে ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে, এমন ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন এটাই তার সরকারের দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী এসময় শ্রমিক কল্যাণে তার সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন। পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকায় উন্নীত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২২০ শতাংশ মজুরি বেড়েছে। বিশ্বের কোথাও মজুরি বৃদ্ধির এমন উদাহরণ নেই। পোশাক শ্রমিকসহ কর্মজীবী স্তনদানকারী মায়েদের মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশ গঠন করা হয়েছে। বিজিএমইএকে সার্টিফিকেট অব অরিজিন ইস্যু করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। বিজিএমইএ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
মালিকদের জন্য অগ্রীম আয়কর ০.৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৩০ শতাংশে কমিয়ে আনা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিংয়ের কাঁচামাল ও অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা, তৈরিপোশাকসহ বেশকিছু রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়াও শ্রম আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ৫০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। নারী শ্রমিকদের জন্য ডরমিটরির ব্যবস্থা করা হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের পাশাপাশি বিজিএমইএ পোশাক শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করছে বলেও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল, গ্রুপবীমা, ট্রেড ইউনিয়ন সংক্রান্ত পরামর্শক সেল, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ছাড়াও শ্রমিকদের বিনোদনের জন্য সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।




