রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়২০১৫ সালে রিজার্ভ স্থিতি ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বিডি সময়কে...

২০১৫ সালে রিজার্ভ স্থিতি ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বিডি সময়কে এস.কে সুর চৌধুরী

2014-08-11 14.11.10বাংলাদেশর রিজার্ভ বিগত ০৭ আগষ্ট ২০১৪ তারিখে প্রথমবারের মত ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় সাত মাস আমদানি দায় মেটানো সম্ভব। সার্কভূক্ত দেশের মধ্যে রিজার্ভ স্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম অবস্থানে রয়েছে ভারত যার রিজার্ভ পরিমাণ ৩২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান, তাদের রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রিজার্ভের নতুন রেকর্ড নিয়ে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি খন্দকার শাফায়েত হোসেন এর সাথে কথা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর এস কে সুর চৌধুরীর। সাক্ষাৎকারটি চুম্বক অংশ আমাদের পাঠকেদের জন্য তুলে ধরা হল।

বিডি সময়: রির্জাভ বৃদ্ধির মূল কারণ কি বলে আপনি মনে করেন?

এস.কে সুর চৌধুরী :  অনেকগুলো কারণে রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যতম একটি কারণ হল রেমিট্যন্স বৃৃদ্ধি। দেশের প্রধান রেমিট্যন্সের উৎস মধ্যপ্রাচ্য। বিগত বৎসরে আকামা নবায়নের কারণে মধ্যপ্রাচ্য হতে রেমিট্যন্স শ্লথ হলেও বর্তমানে স্বাভাবিক ধারায় ফিরে এসেছে। এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে রেমিট্যন্স বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনে পুজা ও কোরবানী ঈদ থাকায় রেমিট্যন্সের এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া রপ্তানি আয় বৃদ্ধিও অন্যতম একটি কারণ। বৈশ্বিক মন্দা অবস্থাতেও দেশের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ইডিএফ এর আওতায় স্বল্প সুদে রপ্তাতিকারকদের ঋণ প্রদানে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

এফডিআই এবং বিদেশি উৎস থেকে কর্পোরেট পর্যায়ে ঋণ গ্রহন উৎসাহিতকরণে বৈদেশিক মুদ্রার সার্বিক প্রবাহ বেড়েছে যা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।  আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও এফডিআই এর প্রবাহ অপেক্ষা তুলনামূলক কম হওয়ায় রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। টাকার মূল্যমান স্থিতিশীল থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

বিডি সময়: আপনি কি মনে করেন রির্জাভ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে?

এস.কে সুর চৌধুরী : অবশ্যই রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। আশা করা যায় যে, ২০১৫ সালে রিজার্ভ স্থিতি ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

বিডি সময় : রিজার্ভ বৃদ্ধির সুফল দেশ কিভাবে পাবে বলে আপনি মনে করেন?

এস.কে সুর চৌধুরী : রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে দেশের ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল শক মোকাবিলা করা সহচতর হবে, টাকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, দেশের রেটিং উচ্চতর হবে যা আন্তর্জাতিক বাজার  হতে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণে এবং বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করবে, তাছাড়া রপ্তানি খাতকে অধিকমাত্রায় ঋণ সহায়তার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অধিক আয়ের সুয়োগ সৃষ্টি হবে।

বিডি সময় : রিজার্ভ  বৃদ্ধি কল্পে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কি ?

এস.কে সুর চৌধুরী : রিজার্ভ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সবসময়ই বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহন করে থাকে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বদেশে রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজতর করার জন্য বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউস/ ব্যাংক শাখা ও ড্রয়িং ব্যবস্থার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্সের অর্থ দ্রুত পৌছানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে এনজিও ও মোবাইল ফোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি প্রদান এবং হুন্ডি তৎপরতা প্রতিরোধ ও দমনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন যুগোপযোগী প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স প্রেরণের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অন্যতম। ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ওয়েজ-আর্নাস ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের উৎসাহিতকরণ যেমন নির্দ্ধারিত স্থিতি থাকা সাপেক্ষে বৈদেশিক মুদ্রায় আকর্ষণীয় হারে সুদ প্রদানের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সিআইপি মর্যাদা প্রদান।

এছাড়া অন্যান্য প্রবাসী ও নিবাসীদের ট্রেজারী বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া দেশে ও বিদেশে রিজার্ভ বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত আয় দ্বারা রিজার্ভ বৃদ্ধিকরণ, স্বল্প ও প্রতিযোগিতামূলক সুদে ব্যাংক তথা দেশীয় উদ্যেক্তাদের বৈদেশিক  মুদ্রায়  ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করা এবং এনআরবিদের সরকারী সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের সুবিধা প্রদান করা এবং এফডিআইকে উৎসাহিত করা ।

বিডি সময় : আপনার মূল্যবান সময় প্রদানের জন্য ধন্যবাদ ।

এস.কে সুর চৌধুরী: আপনাকেও ধন্যবাদ। সেই সাথে বিডিসময়২৪ এর পাঠকসহ সকল প্রবাসীদেরকেও  ধন্যবাদ।  প্রবাসী ভাই বোনদের  প্রতি অনুরোধ থাকবে বৈধ পথে  ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আপনাদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স প্রেরণ করুন এবং দেশের সুনাম, সমৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে অবদান রাখুন।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ