এদিকে কারখানায় তালা মেরে আন্দোলনরত পোশাককর্মীদের আটকে রাখার অভিযোগ করে অনশনরত শ্রমিক নেতা গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের মোশরেফা মিশু বলেন, তুবা গ্রুপের মালিক পক্ষের লোকজন তাদের ভেতরে আটকে গেটে তালা লাগিয়েছেন। গার্মেন্টসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় ভেতরে অনশনরত পোশাককর্মীরা আটকা পড়েছেন। বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে অনশনরত পোশাককর্মীদের মঙ্গলবার রাত থেকে পুলিশ ও মালিকপক্ষের ক্যাডাররা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আজ সকালেও মালিকপক্ষের লোকজন পোশাককর্মীদের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিজিএমইএ বলেছে পোশাককর্মীরাই গেটে তালা লাগিয়েছেন।
এদিকে বিজিএমইএ ভবনে তুবার পোশাককর্মীদের ২ মাসের বকেয়া বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে বেতন নিতে এখানে পোশাককর্মীদের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যাচ্ছে। পোশাককর্মীরা জানিয়েছেন, তারা এক সঙ্গে সব বকেয়া বেতন ও বোনাস ছাড়া আংশিক কোনও পাওনা নেবেন না।
মোশরেফা মিশু বলেন, আমাদের এখান থেকে কেউ দুই মাসের বেতন আনতে যাবে না। পূর্ণ তিন মাসের বেতন-বোনাস, ওভারটাইম দিতে হবে। এ ছাড়া এ বেতন বোনাস কারখানায় এসে দিয়ে যেতে হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পোশাককর্মীরা এখানে কাজ করেছে তাই এখান থেকে বেতন নেবে। বিজিএমইএ ভবনে নিরাপত্তারও অভাব আছে। এখানে আমাদের শত শত পোশাককর্মীর কোনও সমস্যা নেই। অপরদিকে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ঘোষিত বকেয়া পোশাককর্মীরা না নিলে তাদের করার কিছু নেই।
মে, জুন ও জুলাই মাসের বেতন, ওভারটাইম ও ঈদ বোনাসের দাবিতে রাজধানীর বাড্ডার হোসেন মার্কেটে ঈদের আগের দিন থেকে অনশন করে আসছেন তুবা গ্রুপের পোশাক কারখানার কর্মীরা। গত ৩ আগস্ট বিজিএমইএ ভবনে সরকার, গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ ও বিজিএমইএর নেতাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তুবার পোশাককর্মীদের দুই মাসের বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পোশাককর্মীরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন। তারা পাওনা তিন মাসের বেতন ও বোনাস একসঙ্গে পরিশোধ করার দাবিতে অনশন করছেন।




