ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নান বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের অধিকাংশ মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বাজেট দেওয়ার অধিকার এই সরকারের নেই। তাই বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করি। ভোটাধিকার ফিরে পাওয়াই এখন দেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেজর (অব.) মান্নান বলেন, খালেদা জিয়াকে বলেছি, আলোচনার একটি প্রস্তাব রাখতে। কত দ্রুত নির্বাচন করা যায় ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার গঠন করা যায়, সেটাই ছিল আলোচনার উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, বর্তমান অবস্থায় আলোচনা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জোটে যোগদানের প্রশ্ন ওঠে না। আমরা ভিন্ন দল, তিনটি দল নিয়ে আমাদের জোট রয়েছে। আন্দোলনের মূল বিষয়টি হচ্ছে দ্রুত নির্বাচন চাই, নির্দলীয় সরকারের অধীনে। এই সরকার গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত হয়নি। এক সঙ্গে আমরা অনেক কাজ করবো, এর জন্য জোটে যোগ দেওয়ার দরকার নেই।
বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বলেন, ভোটারবিহীন যে ষড়যন্ত্রমূলক ভোট হয়েছে, দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল তা বর্জন করেছে। এ অবৈধ সরকারকে বাদ দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের জন্য আন্দোলন একসঙ্গে হবে। বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা-বি চৌধুরীর বৈঠকটি শুরু হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.)আব্দুল মান্নান খান, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি পদ হারানোর পর বি চৌধুরী ও খালেদা জিয়ার মধ্যে এটাই প্রথম একান্ত বৈঠক।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ বি চৌধুরীকে তার বারিধারার ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১২ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর বাসায় দেখতে যান খালেদা জিয়া। তখন সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে বি চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি। তার আগে গত রমজান মাসে বিকল্প ধারার ইফতার পার্টিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দেখা হয়।
অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। কিন্তু এক পর্যায়ে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’ নামের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন তিনি।




