স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
পাকিস্তান-ভারত ক্রিকেট লড়াই মানেই টানটান উত্তেজনা। এশিয়া কাপের ১২তম আসরে তার কমতি হলো না একটুও। হাজার হাজার দর্শকের সামনে দলকে শ্বাসরুদ্ধকর জয় এনে দিলেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। শেষ জুটিতে টানা দুটি ছক্কা মেরে দুই বল বাকি থাকতে এক উইকেটে পাকিস্তানকে জেতালেন তিনি।
ভারত: ২৪৫/৮ (৫০ ওভার)
পাকিস্তান: ২৪৯/৯ (৪৯.৪ ওভার)
ফল: পাকিস্তান জয়ী এক উইকেটে
এশিয়া কাপে এনিয়ে নবমবার মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। জয় পরাজয়ে ৫-৩ এ এগিয়ে ছিল ভারত। টানা তিনটি আসরে হারের পর এশীয় লড়াইয়ের দ্বৈরথে চতুর্থ জয় পেল পাকিস্তানিরা।
ভারতকে ৮ উইকেটে ২৪৫ রানে বেধে দিয়ে আহমেদ শেহজাদ (৪২) ও সারজীল খান (২৫) দারুণ সূচনা এনে দেন। ৭১ রানের জুটি গড়েন তারা। এরপরই পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ছন্দপতন। ১১৩ রান হতে নেই চারটি উইকেট। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ হাফিজ ঘুরে দাঁড়ালেন সোহেব মাকসূদকে নিয়ে। এই জুটিতে ১৯তম অর্ধশতকের দেখা পান হাফিজ। আর গড়লেন ৮৭ রানের স্বস্তি ফেরানো জুটি।
হাফিজ ব্যক্তিগত ৭৫ রানে উইকেট হারালে আবারও পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন আফ্রিদি। দলীয় ২৩৫ থেকে ২৩৬ রানের মধ্যে সপ্তম ও অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৪৯তম ওভারে ভুবনেশ্বর কুমার সাজঘরে ফেরান উমর গুল ও মোহাম্মদ তালহাকে। শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১০ রান। প্রথম বলে পতন ঘটে নবম উইকেটের।
ফিরে আসে টানটান উত্তেজনা। জুনাইদ খান দ্বিতীয় বলে একটি রান নিয়ে স্ট্রাইকিং প্রান্তে আফ্রিদিকে জায়গা করে দেন। অশ্বিনকে এক্সট্রা কভার বাউন্ডারি ও লং অন দিয়ে দুটি লম্বা ছক্কা মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন এই অলরাউন্ডার। ১৮ বলে দুটি চার ও তিনটি ছয়ে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন আফ্রিদি। অশ্বিন তিনটি উইকেট পান। ভুবনেশ্বর ও অমিত মিশ্র দুটি করে উইকেট দখলে নেন।
দিনের শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে এদিন শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলির মতো দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠায় পাকিস্তান।
দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১০ রানে মোহাম্মদ হাফিজের কাছে এলবিডব্লু হন শিখর ধাওয়ান। অধিনায়ক কোহলি খুব বেশিদূর এগোতে পারেননি। মাত্র ৫ রানে তাকে উমর আকমলের ক্যাচ বানিয়ে শোয়েব আখতারের মতো উড়োজাহাজি স্টাইলে উইকেট শিকারের উল্লাসে মাতেন উমর গুল।
আনোয়ার আলীর পরিবর্তে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া মোহাম্মদ তালহার কাছে উইকেট বিসর্জন দেন রোহিত, ৫৮ বলে সাত চার ও দুই ছয়ে সাজানো তার ৫৬ রানের ইনিংস। রোহিতের এটি এশিয়া কাপে চতুর্থ অর্ধশতক, আর ক্যারিয়ারের ২২তম। ডানহাতি এই পেসার ২৩ রানে অজিঙ্কা রাহানেকে দ্বিতীয় শিকার বানান।
১০৩ রানে চার উইকেট হারালে ভারতকে ৫২ ও ৫৯ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি এনে দেন অম্বতি রাইডু। পঞ্চম উইকেটে তাকে সঙ্গ দেন দিনেশ কার্তিক (২৩), আর ষষ্ঠ উইকেটে ছিলেন রবিন্দ্র জাদেজা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি মেরে রাইডু ৫৮ রানে সাঈদ আজমলের বলে বদলি ফিল্ডার আনোয়ারের তালুবন্দি হন।
আজমলের ঘূর্ণিতে ৪৯তম ওভারে দলের স্কোর ২৩৭ থাকতেই রবিচন্দ্রন অশ্বিন ((৯) ও মোহাম্মেদ সামি খালি হাতে সাজঘরে যান। তবে জাদেজা চারটি বাউন্ডারি ও দুটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শেষ মুহূর্তে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। ক্যারিয়ারের নবম অর্ধশতক মেরে ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অপর প্রান্তে অমিত মিশ্র এক রানে ব্যাট করছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আজমল তিন উইকেট নেন। দুটি করে পান হাফিজ ও তালহা।




