ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
নয় জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৪ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতাযুদ্ধ ছাড়াও শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখায় এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া, এবারে আট জনই মরণোত্তর এ পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করবেন।
পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে আয়োজিত জনসমাবেশের কঠোর নিরাপত্তা ভেদ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ রের্কড ও সংরক্ষণকারী সাবেক গণপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল খায়ের (মরণোত্তর)।
পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় কুমিল্লা সেনানিবাসে ব্রিগেড কমান্ডারের নিকট জেলা পুলিশের অস্ত্র ভাণ্ডারের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি অবস্থায় শাহাদাত বরণকারী মুন্সী কবির উদ্দিন আহমেদ (মরণোত্তর)।
বরিশাল জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় সহায়তা প্রদানকালে শাহাদাৎ বরণকারী কাজী আজিজুল ইসলাম (মরণোত্তর)। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ অধীনস্থ সেনাদল নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৮ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বপালনকারী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. আবু ওসমান চৌধুরী।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কিশোরগঞ্জের তদানীন্তন মহকুমা প্রশাসক ড. খসরুজ্জামান চৌধুরী (মরণোত্তর)।
সরকারি চাকুরিতে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং ১৯৭১ সালের ৫ মে পিরোজপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পদাতিক, নৌ ও বিমানবাহিনীর যুগপৎ হামলায় শাহাদাৎ বরণকারী এস বি এম মিজানুর রহমান (মরণোত্তর)।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টরের অধীন জেলা সাব সেক্টরের রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ডা. মোহাম্মদ হারিছ আলী (মরণোত্তর)। শিক্ষা ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের এম.এন.এ ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বপালনকারী ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান (মরণোত্তর)।
এছাড়া, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ তথা দেশের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী স্বনামধন্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে এবারের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।




