ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
অবৈধ গ্যাস সংযোগ অপসারণে রোববার শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ অভিযান পরিচালনা করবে। অভিযানে গ্যাসের অবৈধ পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন করাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দলীয় প্রভাবশালী এবং খোদ তিতাসের লোকজন অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িত থাকায় নতুন অভিযানের সাফল্য নিয়ে সন্দেহ আছে বিশ্লেষকদের।
২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রায় তিনবছর সিলেট বাদে সারাদেশে গৃহস্থলীতে গ্যাসের নতুন সংযোগ দেয়া বন্ধ ছিল। কিস্তু ওই সময়ে দলীয় প্রভাবশালী ও তিতাসের কিছু অসাধু কর্মী ও ঠিকাদারের সিন্ডিকেট লাখ লাখ অবৈধ আবাসিক সংযোগ দিয়েছে। তিতাস কর্তৃপক্ষের হিসেবেই ঢাকার চারপাশে প্রায় দুইশ কিলোমিটার এমন অবৈধ গ্যাস পাইপলাইনের বিস্তৃতি রয়েছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এর সাথে জড়িতদেরও তালিকা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুর বলেন, উত্তরখান, দক্ষিণ খান, কেরানিগঞ্জ, ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জ, সোনারগাঁ, রুপগঞ্জ, গাজীপুর, সাভারসহ চারদিকে এ অবৈধ গ্যাস লাইনের ছড়াছড়ি।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নওশাদ ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা, তাদেরও সম্পৃক্ততার প্রচুর প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা এটা ব্যবসা পেতে বসেছে। তারা কিন্তু জনসেবা না, অর্থের বিনিময়ে এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছে।
প্রেট্রাবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ বিতরণ লাইনগুলো আমরা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছি এবং আমরা বাধাগ্রস্ত হয়েছি।
অবৈধ সংযোগের কারণে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে। এছাড়া ঝুকিপূর্ণভাবে নির্মিত অবৈধ পাইপলাইনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে নিজ উদ্যোগে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করলে গ্যাস আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রেট্রোবাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আগাম ১৬ তারিখ থেকে আমরা সমন্বিতভাবে এটচা উচ্ছেদে সাঁড়াশি অভিযানে নামবো।
হোসেন মনসুর বলেন, আপনারা আপনাদের স্ব স্ব অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করুন। আমরা আরো কঠোর অভিযান পরিচালনা করবো এবং গ্যাস আইন প্রয়োগ করবো। তাদের জরিমানা অথবা জেল অথবা জরিমানা এবং জেল দুটোই আমরা প্রয়োগ করবো।
এদিকে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দেয়ার সাথে সাথে দলীয় প্রভাবশালী, তিতাসের অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার জড়িত থাকায় নতুন অভিযানের সফলতা নিয়ে সন্ধিহান বিশ্লেষকরা।
জালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, কথা হচ্ছে এখানেতো সরকারের নিজস্ব লোকেরাই সম্পৃক্ত, সেই ক্ষেত্রে আন্তরিকতার অভাব যদি দেখা দেয়, তাহলে আমার মনে হয় কোনোই লাভ হবে না। বরং এরা যদি অকৃতকার্য হয়, তাহলে অন্যান্যরাও এটার সুযোগ নিবে।
বিতরণ পাইপলাইন বসিয়ে নরসিংদি, রূপগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ গাজিপুর কেরানিগঞ্জসহ ঢাকার চারপাশে বাসাবাড়ীতে ব্যাপক হারে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়েছে। গত বছর সরকারের পক্ষ থেকে এসব গ্রাহককে ঘোষণা দিয়ে নতুন সংযোগ নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হলেও তাতে ইতিবাচক সাড়া দেননি অধিকাংশ অবৈধ গ্রাহক।




