ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোনে অনুরোধ করা সত্ত্বেও কাল থেকে টানা তিনদিনের হরতাল প্রত্যাহার করতে রাজি হননি বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল সংবাদ সম্মেলন করে এই কথা জানিয়েছেন।
দুই নেত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের পর এক বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার বিষয়ে জানান মারুফ কামাল। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বারবার হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অনুরোধ অনেক দেরিতে এসেছে। হরতাল ডাকা হয়েছে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে। কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে জোটের নেতা-কর্মীদেরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, এমন দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান অবস্থায় তাদেরকে ডেকে নিয়ে হরতাল প্রত্যাহার বিষয়ে তাদের মত নেয়া সম্ভব না।
শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ থেকে সংলাপ শুরুর দাবিতে রবিবার থেকে টানা তিন দিনের হরতাল ডেকেছেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী বারবার এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সোমবার গণভবনে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান।
মারুফ কামাল খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর খালেদা জিয়া বলেছেন, সোমবার তার পক্ষে যাওয়া সম্ভব না। তিনদিনের হরতাল শেষে প্রধানমন্ত্রী যেদিন বলবেন, সেদিন তিনি গণভবনে যেতে রাজি আছেন। তবে এর আগে নির্দলীয় সরকারের দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিতে হবে সরকারকে। তাহলেই কেবল সব ধরনের কর্মসূচি স্থগিত হবে। এর আগে কোনো ধরনের কর্মসূচি স্থগিত হবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে মারুফ কামাল খান বলেন, টেলিফোনের মাধ্যমে আলাপের শুভ সূচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধা হবে। আলোচনার পথ থেকে সরকার সরে যাবেন না, এটা বিরোধীদলীয় নেতা প্রত্যাশা করেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মারুফ কামাল খান জানান, দুই নেত্রী সব মিলিয়ে ৪০ মিনিট কথা বলেছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী অতীতের নানা কথা বলেছেন। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, তারা অতীত নিয়ে কথা বলতে চান না। তারা চান নতুন ধরনের সরকার গঠন করতে। অতীতেও তারা একসঙ্গে কথা বলেছেন, বসেছেন, আগামীতেও তিনি আশা একসঙ্গে কাজ করার আশা করেন।
সন্ধ্যার আগে দুপুরেও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার টেলিফোনে কল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি সন্ধ্যায় তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে মনে করিয়ে দিলে তিনি সরকার প্রধানকে বলেন, তাঁর লাল টেলিফোন দীর্ঘদিন ধরেই নষ্ট। কাজেই এই টেলিফোনে কল না করে অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেতো।
একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে বিটিসিএলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার লাল টেলিফোন অচল থাকার খবর অসত্য। এই টেলিফোন সচল আছে। এই বক্তব্য দেয়ায় ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, সরকার ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, তা তিনি দেখতে চান।




