ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ (মঙ্গলবার) দেশের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হচ্ছে । দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ থেকে জাানা যায় মাদারীপুরের ৫০ গ্রামে, পটুয়াখালী জেলার ২৫টি গ্রামে, ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ১০ গ্রামে ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ২০ গ্রামে আজ পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম
চন্দ্রমাসের তারিখ অনুযায়ী সারাদেশের মানুষ আগামী বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা পালনের কথা থাকলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ আজ মঙ্গলবার ঈদুল আজহা পালন করবেন। সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘ ২শত বছর পূর্ব থেকে সৌদি আরবের সময়ানুযায়ী একদিন আগে থেকে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা পালন করে থাকেন। মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী চন্দনাইশ উপজেলার নগরপাড়া, কাঞ্চনাবাদ, আফজল নগর(ছুফি বাড়ি), কাঞ্চননগর, বৈলতলী, হারালা, বাইনজুরী, কানাইমাদারী, সাতবাড়ীয়া, বরমা ও বরকল, দোহাজারী, জামিজুরী, সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, গারাঙ্গিয়া ও গাটিয়াডাঙ্গা, লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা ও চরম্বা, বাঁশখালী উপজেলার জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডোংরা, ছনুয়া, তৈলাদ্বীপ ও কালিপুর পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী ও ভেল্লাপাড়াসহ ২০ গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ আজ মঙ্গলবার ঈদুল আজহা পালন করবেন। এ ব্যাপারে মির্জাখীল দরবার শরীফের গদিনাসীন পীর মাওলানা আবদুল হামিদ নূর মিয়া’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আজ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল আজহা পালনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা যেহেতু সৌদি আরবের দিনক্ষণ অনুসরণ করে করি, সে অনুযায়ী ঈদুল আজহাও হবে আজ মঙ্গলবার। এছাড়াও বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি, কক্সবাজার, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া বেশ কয়েকটি গ্রামে মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী রয়েছে তারাও আজ কোরবান করবেন। সিলেট বিভাগের এ দরবারের কিছু অনুসারী রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করার জন্য দরবারে এসে পৌঁছেছেন।
মাদারীপুর
মাদারীপুরের ৫০ গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ (মঙ্গলবার) পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হচ্ছে। সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রাঃ) এর অনুসারীরা ১৪৩ বৎসর পূর্ব থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিবছর একই দিনে ঈদ পালন করে আসছিলেন। জেলার চারটি উপজেলার ৫০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মুসলমান বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ পালন করছেন। ঈদ উপলক্ষে মাদারীপুর সদর উপজেলার চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ও কালকিনির আন্ডারচর খানকায় শরীফ মাঠে ঈদের বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
পটুয়াখালী
পটুয়াখালী জেলার ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মুসলমান আজ পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করছেন। মঙ্গলবার পশুও কোরবানি করছেন তারা। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিবছরই তারা ঈদ করেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পটুয়াখালীর বদরপুর দরবার শরীফে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম গনি। স্থানীয় সূত্র জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ১৯২৮ সন থেকে এখানকার বাসিন্দারা পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উদযাপন করে আসছেন।
ইসলামের চার তরিকার মধ্যে তারা হানাফি মাযহারীর অনুসারী। তাদের নিয়ম হচ্ছে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সে অনুযায়ী তারা রোজা রাখেন এবং কোরবানি করেন। কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়ার জাহাগিরিয়া শাহসূফী মমতাজিয়া দরবার শরীফেও মঙ্গলবার ঈদুল আযহা পালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের প্রধান জামাত নিশানবাড়িয়ায় মমতাজিয়া দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পাঁচজুনিয়া ও চালিতাবুনিয়া, লালুয়া ইউনিয়নের উত্তর লালুয়া, মাঝিবাড়ি, নিশানবাড়িয়া, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তেগাছিয়া, আরামগঞ্জ ও সাফাখালী, টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের এবং কলাপাড়া পৌর শহরের নাইয়াপট্রি, স্লুইজঘাট ও বাদুরতলী এলাকা জামে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। কলাপাড়া ছাড়াও রাঙ্গাবালী, বড়বাইশদিয়া, মৌডুবী, চালিতাবুনিয়া এলাকার এ তরিকার অনুসারীরা নামাজে অংশগ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে ওই ২৫ গ্রামবাসী চট্টগ্রামের এলাহাবাদ সুফিয়া ও বদরপুর দরবার শরীফ এবং চানটুপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
জেলার যে ২৫ গ্রামে ঈদ হচ্ছে সেগুলো হলো, গলাচিপার সেনের হাওলা, পশুরী বুনিয়া, নিজ হাওলা, কানকুনি পারা, মৌডুবি, বাউফলের মদনপুরা, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, কনকদিয়া, আমিরাবাদ, কলাপাড়ার নিশানবাড়িয়া, ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া, দনি দেবপুর, সদর উপজেলার বদরপুর, ছোটবিঘাই, বড় বিঘাই এবং ইটবাড়িয়া।
ফরিদপুর
ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ১০ গ্রামে আজ (মঙ্গলবার) পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হচ্ছে। সাতকানিয়ার মির্জাখিল শরীফের অনুসারী ওই ১০ গ্রামের লোকেরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিবছর একই দিনে ঈদ পালন করেন। গ্রামগুলো হলো, কাটাগড়. সহস্রাইল, মাইট কুমড়া, ভুলবাড়িয়া, শেখর, চড় শেখর, রাখাল গাছি, শেখপুরো, ভাটপাড়া ও রাখালতলি ।
এ ব্যাপারে কাটাগড় গ্রামের বাসিন্দা ও আলফাডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহিদুল হক বলেন, ‘পূর্বপুরুষের আমল থেকে (প্রায় দেড়শ বছর) আমরা প্রতিবছর একদিন আগে ঈদ পালন করে আসছি। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্ঠি কামনায় কোরবানিও দিব।




