ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
মহাসড়ক গুলোতে যানজটের ভোগান্তি থেকে ঘরমুখো মানুষের রেহাই মিলছে না। ফেরিঘাটেও লেগে আছে গাড়ির চাপ। গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে সালনা পর্যন্ত যানজটে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। এ ছাড়া কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়ের দক্ষিণ ও পশ্চিম-উত্তরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও থেমে থেমে চলছে গাড়ি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনা ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর সরকার জানান, সোমবার ভোরে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকে। এর প্রভাব পড়ছে মহাসড়কের কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা, জিরানীসহ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত।এনা পরিবহনের চালক সুরুজ মিয়া জানান, গাজীপুর সদরের চান্দনা চৌরাস্তা ও সালনা এলাকায় রাস্তা খারাপ থাকায় ধীরে ধীরে চলায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ককে যানজটমুক্ত রাখতে গাজীপুরের পুলিশ প্রশাসনের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড়ে একটি চৌকি বসিয়ে হাইওয়ে পুলিশের এডিশনাল এসপি, গাজীপুরের এডিশনাল এসপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পালাক্রমে উপস্থিত থেকে যানজট নিরসনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ওসি মো. আলমগীর সিদ্দিকী জানান, সব পোশাক কারখানায় একযোগে ঈদের ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে অতিরিক্তি গাড়ির চাপা থাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)/শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, সোমবার সকাল থেকে মাওয়ায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। ১৬টি ফেরি অনবরত পারাপারে ব্যস্ত থাকার পরও সাড়ে তিনশ’ যাত্রীবাহী যান পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে বিকল হয়ে গেছে রো রো ফেরি শাহ মখদুম।বিআইডবি্লউটিসি মাওয়া অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) এস এম আশিকুজ্জামান জানান, রোববার ছিল মাওয়া ফাঁকা। কিন্তু সোমবার এর উল্টো চিত্র। ভোররাত থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে। দুটি রো রো ফেরিসহ ১৬টি ফেরি অবিরাম পারাপার করে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। বিকল হওয়ায় রো রো ফেরি শাহ মখদুম মাওয়া ভ্রাম্যমাণ ডগে মেরামত শুরু হয়েছে।
এদিকে, এই পারাপারের অপেক্ষায় থাকা সাড়ে তিনশ’ যাত্রীবহনকারী যান ছাড়াও পণ্যবাহী আরও ৬০টি ট্রাক শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ী এলাকায় লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের চাপ কমলে এগুলো পার করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মাওয়া এখন লোকে লোকারণ্য। ফেরি ছাড়াও লঞ্চ, ট্রলার ও সি-বোটে করেও হাজার হাজার যাত্রী পার হচ্ছে।




