রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদখেলার সময়আবারো ইতিহাসের সাক্ষী চট্টগ্রাম

আবারো ইতিহাসের সাক্ষী চট্টগ্রাম

স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

টেস্ট ভেন্যু হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর চট্টগ্রামের এমএ আজিজ ও জহুর আহমেদ চৌধুরী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনেকে ব্যক্তিগত অর্জন করে রেকর্ড গড়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের টেস্ট জয়ের সূচনা। এছাড়া ব্যাটসম্যান ও বোলার হিসাবে বেশ কয়েকজন ভালো নৈপূণ্য দেখিয়ে স্টেডিয়াম দুটিকে স্মরণীয় করেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে মুমিনুলের সেঞ্চুরি’র পর চতুর্থ দিন সোহাগ গাজীও সেঞ্চুরি করে পরের দিনেই করে ফেলেন বিশ্বরেকর্ড। টেস্টের শেষ দিনে বল হাতে বিধ্বংসী হয়ে পরপর কিউইদের তিনজনকে ফিরিয়ে দিয়ে এ অনন্য রেকর্ড এর মালিক হয়ে যান। এর আগে কেউ এক টেস্টে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্টিক করতে পারেনি। সাহারা কাপ বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম টেস্টের ফলাফল অমীমাংসিত ভাবে শেষ হয়। রোববার প্রথম টেস্টের পঞ্চম দিনের নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে ২৮৭ রান করে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষনা করে। এরপর জয়ের জন্য ২৫৭ রান করার  লক্ষ্য তাড়া না করে  উইকেট সামলে রাখার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। শেষের দিকে দ্রুতগতিতে ব্যাট চালানো সাকিব আল হাসানের হাফসেঞ্চুরি’র পর ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করে দুই দল। ম্যাচের বাকি তখন মাত্র ৪ বল। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে করে ৩ উইকেটে ১৭৩ রান করে। ঈদ-উল- আজহার জন্য  লম্বা বন্ধের পর ২১ অক্টোবর থেকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ৩ রান করা আনামুল হক বিজয় দ্বিতীয় ইনিংসে বাজে শট খেলে বিদায় নেয়ার আগে করেন ১৮ রান। ৩০ ও ৪০ রানে দু‘বার জীবন পাওয়া তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। ৮টি চার হাঁকালেও স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করেননি প্রথম ইনিংসে রান না পাওয়া এই ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও সেট হয়ে আউট হয়েছেন অভিষিক্ত মার্শাল আইয়ুব। ৬৫ বলে ১টি করে ছক্কা ও চারের সাহায্যে ৩১ রান করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে শতকের দেখা পাওয়া মমিনুল হককে (অপরাজিত ২২) নিয়ে দিনের বাকি সময়টুকু নিরাপদেই কাটিয়ে দেন সাকিব আল হাসান। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ সাকিব অপরাজিত থাকেন ৫০ রানে। ড্রয়ের দিকে এগুতে থাকা টেস্টের কিছুটা প্রাণ ফেরানোর কৃতিত্ব সোহাগ গাজীর। প্রথম ইনিংসে শতকের পর হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস একাই দাপট দেখান এ অফ স্পিনার।

বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট ও সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখান সোহাগ। সাকিব আল হাসানের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করা ও পাঁচ উইকেট পাওয়ার অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখালেন তিনি। ২০১১ সালে ঢাকা টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪৪ রান করার পাশাপাশি ৬ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব।

এর আগে ১ উইকেটে ১১৭ রান নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করে নিউজিল্যান্ড। কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে আগের দিনের ৬৯ রানের জুটিকে ১০১ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পর বিচ্ছিন্ন হন পিটার ফুলটন। প্রথম ইনিংসে ৭৩ রান করা এ দীর্ঘদেহী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে লেগবিফোর এর ফাঁদে ফেলে প্রথম আঘাত হানেন সোহাগ।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা উইলিয়ামসন দ্বিতীয় ইনিংসেও সেদিকেও যাচ্ছিলেন। রস টেলরের সঙ্গে তার ৫১ রানের জুটি ভাঙ্গায় ভাগ্যেরও একটু সহায়তা পেয়েছেন সোহাগ। তার খাটো লেন্থের বল সজোরে ব্যাট চালিয়েছিলেন উইলিয়ামসন। শর্ট লেগে থাকা আনামুল হক নিজের মুখ বাঁচাতে গিয়ে ক্যাচ ধরার চেষ্টাই করতে পারেননি। কিন্তু বল অনামুলের দু’পায়ের মাঝখানে আটকে গিয়ে ক্যাচ। ৭৪ রান করে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন উইলিয়ামসন।

অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে রস টেলরের বিপজ্জনক হয়ে উঠা ৫০ রানের জুটিও থেমে যায় সোহাগের ঘূর্ণিতে। ৬ বলে হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে অস্বস্তিতে ফেলেন তিনি। ৮৩ ওভারের পঞ্চম বলে বোল্ড করেন ম্যাককালামকে (২২)। পরের ওভারে ফিরে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম পাকা করে ফেলেন পটুয়াখালীর এই তরুণ স্পিনার। দ্বিতীয় বলে অভিষিক্ত কোরি অ্যান্ডারসনকে লেগবিফোর এর  ফাঁদে ফেলেন তিনি।

পরের বলে প্রথম ইনিংসে শত রান করা  ওয়াটলিং এবার কোনো রান না করেই মুশফিকের তৃতীয় প্রচেষ্টার ক্যাচে পরিণত হন। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনায় ডগ ব্রেসওয়েলকে ঘিরে ধরে মুশফিক বাহিনী। তার ব্যাটের কানায় লাগার পর মুশফিকের প্যাডে লেগে উপরে ওঠা বল ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুবন্দী করে সোহাগকে ইতিহাসের পাতায় নিয়ে যান সাকিব।

টেস্টে এটি কোনো বাংলাদেশী বোলারের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি। ৩ উইকেটে ২৫০ থেকে ৭ উইকেটে ২৬০ রানে পরিণত হওয়া নিউজিল্যান্ডে এরপর বেশিক্ষণ ব্যাট করেনি। ২৮৭ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক ম্যাককালাম। টেলর ৫৪ ও ইশ সোধি ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫৭ রান। দিনের খেলা তখন হওয়ার কথা কমপক্ষে ৪৬ ওভার। ৭৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে সোহাগই বাংলাদেশের সেরা বোলার। অসাধারণ এক শতক ও ম্যাচে ৮ উইকেটের জন্য ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ