জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করতে এত কালক্ষেপণ কেন সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিজেও একজন রাজনীতিক, তাই একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার কথা বলব কিভাবে? জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারটি কোর্টে রয়েছে। তারাই সিদ্ধান্ত দেবেন। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন, তাই রায় যেটাই হবে সেটি আমরা মেনে নেব।’
২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার অপরাহ্নে জাতিসঙ্ঘের বাংলাদেশ মিশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিগত পৌনে পাঁচ বছরে বাংলাদেশের অনেক সুনাম অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা এ জন্য বাংলাদেশকে পুরস্কৃতও করেছে। তা সত্ত্বেও গত পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের বিপর্যয় ঘটার অনেক কারণের একটি হচ্ছে মিডিয়াগুলোর নেতিবাচক প্রচারণা। মিডিয়ায় আমাদের উন্নয়ন অগ্রগতির সংবাদ তেমন আসে না। একটু খারাপ কিছু দেখলেই সব মিডিয়া সেটি ফলাও করে প্রচার করে।’
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এবং রেডিওর লাইসেন্স পেয়েছেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি এবং আওয়ামী ঘরানার ব্যবসায়ীরা। সে সব টিভি-রেডিওতেও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচার ঘটছে না কেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মিডিয়া এখন পুরো স্বাধীনতা ভোগ করছে, মিডিয়ার ওপর সরকারের কোনো প্রভাব নেই। এ ছাড়া বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো নেগেটিভ সংবাদকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার কালচার তৈরি করেছে। এটি মিডিয়াগুলোর সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম।’
শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রিত্বে রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম জিয়া ঘোষণা দিয়েছেন, আপনিও (শেখ হাসিনা) অনড় রয়েছেন যে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করব এ অবস্থায় সামনের নির্বাচন নিয়ে সংশয়-সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এ থেকে উত্তরণের উপায় কী জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা কী চান তা তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেন। তবে আমি এবং আমরা চাই সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করার রীতি চালু করতে হবে কাউকে না কাউকে, সেটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট করে দেখাতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বিশ্বে কখনোই কোনো পার্লামেন্ট বাতিল করে নির্বাচন করা হয় না। আমরা পারব না কেন?
টিভি টক শো এবং অন্যান্য মিডিয়ায় সুশীল সমাজ বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যকার মতবিরোধের কারণে আবারো সঙ্ঘাতময় পথে এগুচ্ছে বাংলাদেশ এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এসব কথা বলছেন তারা সবাই আগে সরকারি অথবা আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে ছিলেন। সে সময় তারা কে কী করেছেন সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।’ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হলে সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে, আর তা না ঘটলে সঙ্কট দেখা দিতে পারে বাংলাদেশে। সেক্ষেত্রে তিনি আবার গাড়িতে পতাকা ওড়াতে পারবেন। সে আশা পূরণ হচ্ছে না ভেবে এখন হা-হুতাশ করছেন ওই সম্পাদক। এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।
টক শোর অতিথি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজেদের অতীত ভালো করে বিশ্লেষণ করে দেখে তারা যদি চুপ থাকেন তাহলে সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে না দাঁড়ান, তাহলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে খুব সহজে। বিরোধীদলীয় নেতা ভাবছেন যে, জামায়াত-শিবির আর হেফাজতের মদতে মতায় অধিষ্ঠিত হলেই ওনাদের দুয়ার খুলে যাবে। কিন্তু তা কখনোই ঘটবে না। যারা মতা নেবে তারা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের চেয়েও জঘন্য অপকর্মে লিপ্ত হবে।
বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) মামুন-অর রশীদের সঞ্চালনে এ সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন বলেন, ‘আজ জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সাথে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক হয়েছে। সে সময় মহাসচিব বান কি মুন জানান যে, শিগগিরই জাতিসঙ্ঘ শান্তিরা মিশনে আরো এক ব্যাটালিয়ন সৈন্য নেয়া হবে বাংলাদেশ থেকে। এটি বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় একটি সংবাদ।a




