চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
চট্টগ্রামের শীর্ষ রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধিদের অধিকাংশই এবার ঈদের নামাজ আদায় করেছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল হিসেবে এলাকায়, এলাকায় গেছেন সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীরা।
তবে ঈদের নামাজ আদায় করতে চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে এবারও সমবেত হয়েছিলেন চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধি।
ঈদের মহামিলন চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিযোগিতা কিছুক্ষণের জন্য ভুলিয়ে দিয়েছিল। পারস্পরিক অবস্থানগত বৈপরিত্যের কথা ভুলে শুক্রবার এক কাতারে দাঁড়িয়েছিলেন আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
ঈদের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা.আফছারুল আমিন বলেন, ‘ধর্ম আর রাজনীতি এক বিষয় নয়। রাজনীতি থাকবে রাজনীতির মাঠে আর ধর্ম থাকবে ধর্মের জায়গায়। আমরা শুধু ঈদের নামাজ না, কেউ মারা গেলে জানাজাও একসঙ্গে পড়ি।’
রাজনীতির প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীও। তিনি শুধু চট্টগ্রামবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তবে রাজনীতির প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে আশা, আকাঙ্খা নিয়ে এবার মানুষের ঈদ পালনের কথা ছিল সেটি তারা পারছেনা। মানুষ জানেনা আগামীতে নির্বাচন হবে কিনা, তারা আদৌ ভোট দিতে পারবে কিনা। মানুষের মধ্যে নানা আশংকা আছে।’
এছাড়া জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি ও সাংসদ মঈনউদ্দিন খান বাদল, চট্টগ্রামের মেয়র এম মনজুর আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, নগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ, আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ নোমান প্রমুখ।
আওয়ামী লীগের সদ্য মনোনীত প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মিরসরাইয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায় এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম হাটহাজারী পূর্ব শিকারপুরে নিজ বাড়ির মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
এছাড়া নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উত্তর কাট্টলীতে নিজ বাড়িতে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেনও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বোয়ালখালী কধুরখীলে তার গ্রামের বাড়িতে নামাজ আদায় করেছেন। আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ শামসুল হক চৌধুরী পটিয়ার শোভনদন্ডীতে বাড়ির পাশের মসজিদে নামাজ পড়েছেন। আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী, এবিএম আবুল কাশেম মাষ্টার, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদও নিজ নিজ এলাকায় নামাজ আদায় করেছেন।
প্রতিবছর জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করলেও এবার অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মীর মো.নাছির উদ্দিন। আর বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার নামাজ পড়েছেন রাউজানের গহিরায় নিজ বাড়িতে।
এদিকে প্রতিবছরের মত এবারও নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ীদের জন্য ঈদের পরদিন নগরীতে মেজবানের আয়োজন করেছেন বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান। প্রতিবছর নোমানের এই মেজবানে হিন্দু, মুসলিম সকলের মিলনমেলা ঘটে।
নোমানের ব্যক্তিগত সহকারী নূরুল আজিম হিরু জানিয়েছেন, এবারও মিলনমেলা ও মেজবানে যোগ দেয়ার জন্য আবদুল্লাহ আল নোমান দল, মত নির্বিশেষে তার সকল রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, পেশাজীবী, ছাত্র, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
মেজবান কিংবা আপ্যায়ন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্য নতুন কিছু নয়, তবুও এ বছর তিনদিন ধরে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। সাথে সবার জন্য মেজবানসহ নানা খাবারদাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিউদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারী মো.ওসমান।
এছাড়া অধিকাংশ রাজনীতিক, সাংসদ নিজ নিজ এলাকায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করেছেন বলে জানা গেছে।




