শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়আলোচনার কেন্দ্রে জয় আর তারেক

আলোচনার কেন্দ্রে জয় আর তারেক

ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)

পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের ধারায় আলোচিত দুই নাম তারেক রহমান ও সজিব ওয়াজেদ জয়। আপাতত রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও এই দুই তরুণ নেতৃত্ব সাম্প্রতিক দু–একটি ইস্যুতে কথা বলে আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যত কাণ্ডারিকে নিয়ে আলোচনা এখন দেশবাসীর মুখে মুখে। সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর একমাত্র ছেলে। আর তারেক রহমান বর্তমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে। দুজনই মূলত থাকেন দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যে। এর মধ্যে তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত। অপরজন জয় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। মাঝে–মধ্যে আসেন দেশে। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে দুজনের দুটি বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা। গত মঙ্গলবার ঢাকায় যুবলীগের ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন জয়। সেখানে তিনি বলেন, আমার কাছে তথ্য আছে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। এর ঠিক একদিন পরই লন্ডনে একটি ইফতার পার্টিতে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। সেখানে তিনি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তীব্র আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করা হবে সে সম্পর্কেও ধারণা দেন তারেক। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে তারেকের বক্তব্যের বিষয়ে কিছু বলা না হলেও জয়ের বক্তব্যের বিষয়ে গতকাল ব্যাখ্যা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি বলেছে, জয়ের বক্তব্যে দেশের বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। পক্ষান্তরে বিএনপি জয়ের বক্তব্য নিয়ে মিথ্যাচারে মেতে উঠেছে। তবে ঘটনা যা–ই হোক প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এখন তারেক রহমান আর সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য নিয়ে চায়ের টেবিলে ঝড় তুলছেন। কারণ দুজনের বক্তব্যই ছিল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে, আর নির্বাচন একেবারে সন্নিকটে।

যদিও সজীব ওয়াজেদ জয়কে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে দেখা যায় না। মা শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পরও তিনি রাজনীতিতে তেমন একটা সক্রিয় নন, যেমনটা ছিলেন বিএনপি আমলে তারেক রহমান। জয় থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। মাঝে মাঝে দেশে এসে নীরবেই চলে যান। তেমন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন না তিনি। এর ফলে তেমন কোনো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বক্তব্যও আসে নি তার মুখ থেকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার কথা হঠাৎ করে বলে আলোচনায় আসেন তিনি।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জয়ের রাজনীতিতে আসার কোনো ইঙ্গিত রয়েছে কি–না এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা ডয়চেভেলেকে বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তিনি রাজনীতিতে আসুক তা আমরা সবাই চাই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও চান তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হোন। কী তথ্যের ভিত্তিতে জয় এমন কথা বললেনণ্ড তা জানতে চাইলে সাবেকমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশের মানুষ আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে এট সবাই বিশ্বাস করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি এ কথা বলেছেন। কেউ ক্ষমতায় থাকলে বা ক্ষমতার বাইরে থাকলে তিনি আশা করতেই পারেন আবার ক্ষমতায় আসবেন।

তবে মোহাম্মদ নাসিমের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন তারেক রহমানের আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসতে চায়। জয়ের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তবে বাংলাদেশের মাটিতে ষড়যন্ত্র করে কেউ পার পায়নি আর পাবেও না। এ সময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ব্যারিস্টার খোকন।

অন্যদিকে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থা চলার সময় চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যান। এরপর থেকে জনসমক্ষে আসেন নি তিনি। রাজনীতি নিয়ে বলেন নি তেমন কোনো কথাও। তবে গত বুধবার লন্ডনের একটি ইফতার পার্টিতে লিখিত বক্তব্য দেন তারেক। সেখানে তিনি বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করা হবে তার একটি বিবরণ তুলে ধরেন। তার এ বক্তব্য সম্পর্কে ব্যারিস্টার মাহবুব বলেন, তারেক রহমান তো গঠনমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। দেশের জন্য তিনি ভাবেন এবং কিছু করতে চান। আর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তো শুধু তারেক রহমান নয়, দেশের সবাই চান।

এদিকে জয়ের বক্তব্যের বিষয়ে শনিবার ব্যাখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম–সাধারণ সম্পাদক মাহবুব–উল আলম হানিফ। হানিফ বলেছেন, জয়ের বক্তব্যে দেশের বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। কিন্তু তার বক্তব্যের পরে বিরোধী দলের নেতারা এটা নিয়ে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন। তাদের এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হানিফ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে বিদ্যমান আর্থসামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগের যে বিশাল কর্মীবাহিনী রয়েছে যারা বিভিন্ন কারণে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন তাদের মাঠে নামানো গেলে এবং সরকারের সাফল্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবেণ্ড এটাই তিনি বুঝাতে চেয়েছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ