শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......এরপর সাকা চৌধুরী

এরপর সাকা চৌধুরী

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা শেষ হওয়ার মিছিলে এগিয়ে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে এখন তারটার রায়ই আগে হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে ঘোষিত হয়েছে ছয়টি মামলার রায়। হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সবক’টিতে দণ্ড হয়েছে ‘ক্রিমিনাল সংগঠন’ জামায়াতের শীর্ষ ছয় নেতার।saka
পরবর্তী মামলাগুলোর কার্যক্রমের দিক থেকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরই বিএনপির সাবেক নেতা মন্ত্রী আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে করা মামলাটি রয়েছে।
এর মধ্যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ রোববার ২৮ জুলাই তার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শুরুর দিন ধার্য রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ।
গত বুধবার বিকেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে চতুর্থ সাফাই সাক্ষী সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোমেন চৌধুরীকে জেরা শেষ করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও হায়দার আলী।
উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক উপস্থাপনের পর শেষ হবে এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া। প্রসিকিউশনে ২৮ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন কথা রয়েছে। এরপর ৩১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে আসামিপক্ষ। গাড়ি ভাঙচুর ও পোড়ানোর মামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে গ্রেফতার করা হয়। পরে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। গত বছরের ৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এতে তার বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে আরেক বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা এজেডএম আলতাফুর রহমানের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হবে।
এম এ আলীম ছাড়াও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোবারক হোসেনের বিচার কার্যক্রম চলছে।
আর বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলায় আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মাঈনুদ্দীনের বিচার শুরু হয়েছে।
বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর মামলা। এছাড়া তদন্ত শেষ হয়েছে বিএনপি নেতা ও নগরকান্দা পৌর মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন ও জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের।
আর তদন্তাধীন রয়েছে জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সোবহান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কাওসার (হবিগঞ্জ), চট্টগ্রামের রাউজানের বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, যশোরের মওলানা সাখাওয়াত হোসেন, পিরোজপুরের জাতীয় পার্টি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার, বাগেরহাটের সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ মাস্টার, খুলনার আমজাদ মিনার, রাজশাহীর লাহার আলী শাহ ও আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা জামালপুরের মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের। এদের মধ্যে আটক আছেন সৈয়দ মোহাম্মদ কাওসার ও আব্দুস সোবহান।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে দেওয়া আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার। বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে গত বছরের ২২ মার্চ গঠিত হয় দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল। গত ৩ বছর দুই মাসে ৬ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ