রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদখেলার সময়আফ্রিদির ব্যাটিং ঝড়ে কাছে হার মানল বাংলাদেশে

আফ্রিদির ব্যাটিং ঝড়ে কাছে হার মানল বাংলাদেশে

নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় ৩২৬ রান করেও শহীদ আফ্রিদির ব্যাটিং ঝড়ে কাছে হার মানল। সোমবার এশিয়া কাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মুশফিকদের তিন উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠল পাকিস্তান। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে নিজেদের জয়ের রেকর্ড গড়ল তারা। এর আগে মোহালিতে ৩২৩ রান তাড়া করে জিতেছিল পাকিস্তান।

বাংলাদেশ: ৩২৬/৩ (৫০ ওভার)
পাকিস্তান: ৩২৯/৭ (৪৯.৫ ওভার)
ফল: পাকিস্তান জয়ী তিন উইকেটে

এনামুলের শতক, ইমরুল-মুশফিক-মুমিনুলের অর্ধশতক। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানিদের আসল রূপ দেখিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে ব্যর্থতা ও আহমেদ শেহজাদের স্বস্তি ফেরানো শতকের সঙ্গে শহীদ আফ্রিদির ব্যাটিং ঝড়ে রানের পাহাড়ও টপকে গেল পাকিস্তান।

৯৭ রানের এই জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু এনেছিলেন মুমিনুল হক। এরপর আরও আট রানের মধ্যে দুটি উইকেট হার‍ায় পাকিস্তান। দলীয় ২১তম ওভারের চতুর্থ বলে হাফিজকে ৫২ রানে ইমরুল কায়েসের তালুবন্দি করতে বাধ্য করেন মুমিনুল। পরের ওভারে সাকিব আল হাসান তুলে নেন মিসবাহ উল হকের উইকেট। গত দুটি ম্যাচে টানা রান আউট হওয়া পাকিস্তানি অধিনায়ক এদিন ৪ রানে বোল্ড হন। টানা দ্বিতীয় ওভারে মুমিনুল শিকার করেন সোহেব মাকসূদকে। ১০৫ রানে নেই তিন উইকেট।

জয়ের ক্ষণগণনা ভালোভাবে শুরু করেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু ফাওয়াদ আলমকে নিয়ে শতরানের জুটি গড়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেন শেহজাদ। ১০৫ রানের এই জুটি রাজ্জাকের কাছে ভাঙার আগে এই ওপেনার ক্যারিয়ারের পঞ্চম শতক পান ১১৭ বলে। বোল্ড হওয়ার আগে ১২৩ বলে ১২ চার ও এক ছয়ে সাজানো তার ১০৩ রানের ইনিংস। দলের ২২৫ রানের মধ্যে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে আব্দুর রেহমানকেও সাজঘরে পাঠালেন মাহমুদউল্লাহ। কোনো বল না করে বাংলাদেশকে ৮ রান দেওয়া এই বোলার ব্যাট হাতেও করলেন ৮ রান।

বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার তখন পাঁচ উইকেট, আর পাকিস্তানের ৮ ওভার চার বলে ১০২ রান। ভারতের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের নায়ক আফ্রিদি নামলেন ব্যাটিং ক্রিজে। নেমেই পরের দুই ওভারে পাঁচটি ছয় হাঁকালেন। ম্যাচ তখনই ফসকে গেল স্বাগতিকদের। ১৮তম বলে দ্বিতীয় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ওয়ানডেতে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন তিনি। এর মধ্যে ছয়টি ছয় মারেন আফ্রিদি। ৪৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শর্ট কভারে তার উচু শটটি না ধরে জীবন দেন। এরপর সপ্তম ছয় হাঁকিয়ে ২৫ বলে ৫৯ রানে রান আউট হন তিনি।

আফ্রিদি যখন সাজঘরে তখন পাকিস্তানের দরকার ১৯ বলে ৩৩ রান। ফাওয়াদ ও উমর আকমল এসে সহজেই কাজটা সেরে ফেললেন। যদিও দুই বলে দুই রানের প্রয়োজন থাকতে ফাওয়াদ আউট হন। ৭০ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো তার ৭৪ রানের ইনিংস। এক বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছাতে আকমল মিডউইকেট দিয়ে বাউন্ডারি মারেন।

এর আগে টস জিতে এদিন চতুর্থ বলেই জীবন পান ইমরুল কায়েস। মোহাম্মদ হাফিজের বলে তার শটটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন আহমেদ শেহজাদ। এরপর চার ছক্কার ফুলঝুরি। বাংলাদেশের উপর যেন ভর করেছিল অতিমানবীয় শক্তি। একের পর এক বাউন্ডারি দর্শকসারিতে থাকা দর্শকদের উল্লাস থামতেই দেয়নি।

এমনকি ১৯৯৯ সালে মেহরাব হোসেন ও শাহরিয়ার হোসেনের ১৭০ রানের সেরা উদ্বোধনী জুটির রেকর্ডটি হুমকির মুখে পড়েছিল ইমরুল ও এনামুলের জুটিতে। কিন্তু সেটা হতে পারেনি। দ্বিতীয় সেরা উদ্বোধনী জুটি হিসেবেই থামে তাদের ১৫০ রানের জুটি। ৬৩ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে দশমবারের মতো ৫০ ছুঁয়ে ফেলেন ইমরুল। এর আগে ৫৫ বলে পাঁচ চার ও তিন ছয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন এনামুল।

এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ইমরুল। ৭৫ বলে পাঁচ চার ও দুই ছয়ে ৫৯ রানে মোহাম্মদ তালহার বলে বিতর্কিতভাবে উমর আকমলের গ্লাভসবন্দি হন এই বাঁহাতি। তবে থেমে যাননি এনামুল। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতকটি তিনি পান ১৩১ বলে। ছয়টি চার ও চারটি ছয়ের মারে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে পরের বলে আউট হন তিনি। ততক্ষণে দলের স্কোর ২০৪ রান। মুমিনুলের সঙ্গে তার জুটিটি ছিল ৫৪ রানের।

হাতে ছিল যথেষ্ট উইকেট, দলের স্কোরও দুর্দান্ত। ৪০ ওভারে ২০৫ রান। সময়ক্ষেপণ না করে শুরু থেকে পাকিস্তানি বোলারদের ‍উপর চড়াও হন মুমিনুল ও অধিনায়ক মুশফিক। মাত্র পাঁচ ওভার এক বলে এই জুটিতে ৪৫ রান গড়েন তারা। ইতোমধ্যে ৪৪ বলে ছয়টি ‍চারে টানা দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পান মুমিনুল। কিন্তু তাকে ৫১ রানে সাজঘরে ফিরতে হয় সাঈদ আজমলের বলে।

এরপর মুশফিকের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং ঝড়। তাদের জুটিতে ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশের এশীয় কাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় রানের মাইলফলকে পৌঁছায় দল। সেবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৩০০ করেছিল টাইগাররা।

৩২ বলে আট চারে ১৪তম ফিফটি পান মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে সাকিবকে নিয়ে তিনি ৩৪ বলে হার না মানা ৭৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। ১৬ বলে ছয় চার ও দুই ছয়ে সাকিব ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। মুমিনুল, মুশফিক ও সাকিবের ব্যাটে শেষ ১০ ওভারেই বাংলাদেশ করে ১২১ রান।

তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এদিন ফিরে এসেছিলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে নাঈম ইসলামকে। বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন এসেছে আরও চারটি। শামসুর রহমানের জায়গায় ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ এসেছেন চোটাক্রান্ত সোহাগ গাজীর পরিবর্তে। স্পিনার আরাফাত সানিকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে পেসার শফিউল ইসলামকে। আর রুবেল হোসেনকে বাইরে রেখে নেওয়া হয়েছে আল-আমিন হোসেনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ