ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
বিএনপির দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিরোধীদলের প্রতি সরকার ও প্রশাসনের প্রতিটি আঘাতের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
রিজভী বলেন, এ সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্নে বিভোর রয়েছে। বিরোধীদলের দমনের মাধ্যমে তাদের খায়েশ পূরণ করতে চায়। কিন্তু তারা ইতিহাস ভুলে গেছে। প্রতিটি আঘাতের প্রত্যাঘাত তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
শুক্রবারের সমাবেশকে কেন্দ্র করে জোটের ৬ নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন রিজভী। এছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত ও সাড়ে চার শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, আজ (শুক্রবার) সমাবেশ হয়েছে। সরকারের বাহিনী আমাদের নিবেদিতপ্রাণ ৬ কর্মীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। বিরোধীদলের রক্ত পান করলেই যেন তাদের প্রাণ শান্ত হয়, উল্লাসে মেতে ওঠে তারা। এসময় নিহতদের নাম পরিচয়ও জানান বিএনপি’র এই নেতা।
নিহতরা হলেন, কক্সবাজারের চকোরিয়ায় যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম বাদশা ও মিজানুর রহমান, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আরিফ, জাহাঙ্গীর হোসেন ও অন্য এক নেতা (নাম পাওয়া যায়নি), শ্রমিকদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম। শফিকুল ইসলামকে ইট দিয়ে থেতলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।
রিজভী বলেন, ‘চাঁদপুরে আরও অনেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এগুলো আওয়ামী লীগের সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত, কীভাবে মানুষকে থেতলিয়ে মারতে হয়, সেটাই তারা দেখাচ্ছে। বারবার বলেছি, গণতান্ত্রিক পন্থায় সংগ্রাম করছি। তারা ব্যক্তিগত অহংকার জাহির করতে এটি করছে। সবাইকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) অনুগামী হতে বাধ্য করতে চাচ্ছেন। কিন্তু নাগরিক স্বাধীনতাবোধ থেকে বাংলার মানুষ বিচ্যুত হন না।
তিনি বলেন, ‘তারা গণতন্ত্রের ঘাতক। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রাম করছি। খুন, গুম, বন্দী করে তারা বিরোধীপক্ষকে দমনের চেষ্টা করছে। আজও সেই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে নির্যাতন চালিয়েছে।’রিজভী নিহত নেতাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। অবিলম্বে আটকদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে মুক্তির দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ তালুকদার, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শামসুল আলম তোফা(ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ভাই), স্বেচ্ছাসেবক নেতা অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।




