ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
কি হচ্ছে, কি হবে – সরকারের মেয়াদ কি ফুরিয়ে গেছে? তাহলে, দেশ চালাবেন কে? আওয়ামী লীগ, বিএনপি, নাকি অন্য কোনো শক্তি? এসব হাজারো জিজ্ঞাসা নিয়েই আজ ভোরের সূর্য উঠবে সারাদেশে। নারী-পুরুষ, আমলা থেকে মুটে-মজুর সবারই মনে অজানা আশঙ্কা – কিছু হবে না তো!
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সংসদে বিরোধী দলনেতা বেগম খালেদা জিয়া গতকাল ঢাকার এক ঘরোয়া সমাবেশে দাবি করেছেন আজ শুক্রবার থেকে বর্তমান সরকার অবৈধ। জানা গেছে, আজ ঢাকাসহ সারাদেশেই সভা-সমাবেশ করে বর্তমান মহাজোট সরকারকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা দিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দিবেন বিরোধী দলের এ নেতা। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহের টানা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শক্তি নিয়ে আজ মাঠে নামছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিসহ ১৮ দল। দূরত্ব বজায় রেখে ১৮ দলের পিছনে থাকবে হেফাজতে ইসলামসহ প্রশাসনেরও একটি অংশ। কিন্তু তারপরেও, জোটমিত্র জামায়াতে ইসলামীর কাছে বিএনপির এ পরিকল্পনা যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। জামায়াত মনে করে, গতরাত ৯টা পর্যন্ত নয়াপল্টনে জোটের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে যথেষ্ঠ প্রত্যয়ী থেকেও যেভাবে সরকারের কৌশলের মুখে পিছু হটেছে বিএনপি, তেমনি সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের ছক কষেও তা থেকে যে কোনও মুহূর্তে আবার পিছনে সরে আসাও বিএনপির জন্য অবাক ঘটনা হবে না।
এদিকে, বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনকে হিংসাত্মক কর্মসূচি হিসাবে চিত্রিত করে আজ সারাদেশেই পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও সতর্ক অবস্থায় থাকবে। ঢাকার বাইরে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা সভা-সমাবেশের কর্মসূচি পালন করলেও ঢাকায় হানাহানি এড়াতে আওয়ামী লীগের কোনও কর্মসূচি রাখা হয়নি। তারপরেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঢাকার প্রধান-প্রধান এলাকার আশে-পাশে দলের কর্মীদের জড়ো করবে বলে একাধিক নেতা এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রের খবর হচ্ছে, ১৮ দল শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করলে তারা সহায়তা দিয়ে যাবে। কিন্তু তার ব্যত্যয় হলেই কঠোর একশনে যাবে তারা। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে ১৩টি শর্তে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তার যে কোনও একটির ব্যত্যয় হলেই প্রথমে সতর্ক করা হবে। তারপর তারা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫-৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেই বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ আহবান করে। আগামী রবিবার থেকে অবরোধের পরিকল্পনাও আছে তাদের। তবে এই কর্মসূচি গোপনীয় রাখা হয়েছে। আজকের সমাবেশ দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হলেই অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের অঙ্গীকার আদায়ের পরেই কর্মসূচি উঠিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর মাঝেই বিএনপির এ সব পরিকল্পনা সরকারের কাছে ফাঁস হয়ে গেলে সরকারও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। প্রথমেই আগে-ভাগে ঢাকায় সভা-সমাবেশের কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে চাপের মুখে রাখে বিএনপিকে। একই সময়ে জাতীয় সংসদকে চলমান ও সক্রিয় রাখার জন্য অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতির উদ্দেশে তড়িঘড়ি করে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিয়ে সর্বদলীয় সরকার গঠনে সরকারের আগ্রহের কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু তারপরেও স্বস্তিতে নেই সরকার। দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের উপর নানামাত্রিক চাপ অব্যাহত থাকায় সরকার মনে করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টার পরেও ব্যতয় ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপির সমাবেশে প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাকে হাজির করার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছে সরকার। তারপরেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একজন সচিব কয়েকজন সিনিয়র সচিবকে ডেকে বিষয়টি দেখভাল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল এ সব কারণেই।সোহরাওয়ার্দীতেই সমাবেশে রাজি বিএনপি : অবশেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিল বিএনপি। দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত তারা নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুমতি না দেওয়ায় সোহরাওয়ার্দীত উদ্যানেই সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় বিএনপি। তবে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে কোনো ধরনের বাধা এলে সেখান থেকেই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। এদিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে সোহরাওয়ার্দীতে ১৮ দলের সমাবেশ শুরু হবে। ঐতিহাসিক এ সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখবেন।’




