রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদটপইংরেজি ভাষায় লেখা আছে দোকানের সাইনবোর্ড। কোনো নজর নেই কর্তৃপক্ষের

ইংরেজি ভাষায় লেখা আছে দোকানের সাইনবোর্ড। কোনো নজর নেই কর্তৃপক্ষের

ঢাকা শহরে জন্মদিন, বিয়ে আড্ডার আসর এখন বেশির ভাগই জমে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোয়। এগুলোর সিংহভাগের সামনেই বড় বড় করে ইংরেজি হরফে লেখা নাম শোভা পায়। শুধু বড় হোটেল-রেস্তোরাঁই নয়, পাড়া-মহল্লার বিউটি পারলার, জিম এবং ছোট-বড় দোকান ও কনফেকশনারিতেও ইংরেজিতে লেখা নামের ছড়াছড়ি। কোনো কোনো রেস্তোরাঁয় তো ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, এমনকি আরবি অক্ষরেও নাম দেখা যায়। নামগুলোও ইংরেজি কিংবা চীনা অথবা আরবি ভাষা থেকে ধার করা। বাংলা অক্ষরে লেখা নাম কেবল দেখা যায় বাংলায় নামকরণ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয়।

অথচ ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালত এক আদেশে বলেন, দেশের সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বরপ্লেট, দপ্তরের নামফলক বাংলায় লিখতে হবে। ওই বছরের ২৯ এপ্রিলের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত। এরপর ২৯ মে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে এটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেকেই এই রায়ের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে কিছু রেস্তোরাঁয় যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, তাঁরা ওই রায় সম্পর্কে জানেন না। অনেকে আবার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘সবাই তো ইংরেজি নামই ব্যবহার করছে। তাহলে আমাদের কেন প্রশ্ন করছেন?’ কেউ কেউ বলেছেন, ইংরেজি নামগুলো বাংলায় লিখলে দেখতে ভালো দেখায় না। ধানমন্ডির একটি নামকরা রেস্তোরাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা জানি, এই নিয়মটি আছে। কিন্তু আমাদের সাইনবোর্ডটি পরিবর্তন করা হয়নি। আমরা দ্রুত এটি পরিবর্তন করার চেষ্টা করব।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনর (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বার্ষিক মিটিংয়ে এ সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী হোটেল-রেস্তোরাঁর সাইনবোর্ড বাংলা অক্ষরেই হওয়ার কথা। এই আইন না মানা হলে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মেরীনা নাজনীন বলেন, ‘যখন কেউ ট্রেড লাইসেন্স করতে আসেন, তখনই আমরা তাঁদের এ ব্যাপারে অবগত করি। আবার যখন কেউ ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে আসেন, তখনো আমরা বলি, সাইনবোর্ড বাংলায় লিখতে হবে। এরপরও অনেকেই তা করেন না। আবার অনেকে অনলাইনেই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করেন। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো সম্ভব হয় না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ