রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনরাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবেলায় সিএমপি পুলিশের প্রস্তুতি

রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবেলায় সিএমপি পুলিশের প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে থানা, ফাঁড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় বেপরোয়াভাবে হামলার আশংকা করছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এজন্য নগরীর সব থানা ও ফাঁড়িকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নগরীতে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের জন্য বেশকিছু করণীয়ও বেঁধে দেয়া হয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবেলায় পুলিশ ভেতরে ভেতরে রণপ্রস্তুতি নিচ্ছে। ২৪ অক্টোবর ভোর থেকে নগরীতে বিজিবি নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর পুলিশ। এর পাশাপাশি ব্যাপক আকারেও পুলিশ ফোর্সও মোতায়েন করা হবে ওইদিন থেকেই।

নগর পুলিশের উপ কমিশনার (সদর) মাসুদ-উল-হাসান বলেন, ‘পুলিশের উপর আগেও হামলা হয়েছে। এবারও থানা-ফাঁড়িসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণ হতে পারে বলে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে। এরপর আমরা থানা ও ফাঁড়িগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলেছি এবং পুলিশ সদস্যদের বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছি।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগর পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, রাস্তায় টহল, কর্মসূচী কিংবা কোন স্থাপনায় নিরাপত্তা দেয়ার সময় বিশেষ করে রাতে ইউনিফর্ম পরিহিত কোন পুলিশ সদস্য বিচ্ছিন্ন হতে পারবেন না।

রাতে টহল দেয়ার সময় পুলিশ সদস্যদের কোথাও দীর্ঘক্ষণ বসে না থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওসি থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সদস্যদের সহিংসতা মোকাবেলার মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। নগরীর ১৬টি থানার ওসিদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে তাদের থানা ও অধীনস্থ ফাঁড়ির পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় সরকারী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স‍ূত্র জানায়, মঙ্গলবার শিল্প পুলিশের কাছে দু’শ ফোর্স এবং এপিবিএন’র কাছে দু’শ ফোর্স চেয়ে চিঠি দিয়েছে সিএমপি। প্রত্যেক প্লাটুনে ২০ জন সদস্য করে ৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য চেয়েও নগর পুলিশের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাদের ২৪ অক্টোবর ভোর থেকে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে। এর বাইরে রিজার্ভ ফোর্স ও থানার পুলিশ মিলিয়ে আরও প্রায় দু’হাজার ফোর্স একইসঙ্গে মাঠে নামানো হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

নগর পুলিশের উদ্ধর্তন এক কর্মকর্তা  জানান, বিজিবি ও অতিরিক্ত ফোর্স ২৪ অক্টোবর ভোরে সিএমপিতে আনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হবে না। অবস্থা বুঝে তাদের রাজপথে যাবার নির্দেশ দেয়া হবে। এছাড়া থানার নিয়মিত সদস্যদের সহিংসতা মোকাবেলায় চেয়েও বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তায় বেশি ব্যবহার করা হবে। সহিংসতা হলে সেটা দমনে ব্যবহার করা হবে অতিরিক্ত ফোর্স ও বিজিবিকে।

এদিকে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবরোধের মত পরিস্থিতি চট্টগ্রামে সৃষ্টি হলে অবরোধকারীদের কিভাবে সরানো হবে তা নিয়ে সোমবার নগর পুলিশ ও বিজিবি’র উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে ঢাকায় অবরোধকারীদের সরাতে সাউন্ড গ্রেনেডসহ যেসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছিল সিএমপিতে তার মজুদ নিয়েও আলোচনা হয় সূত্র জানিয়েছে।

নগর পুলিশের উপ কমিশনার (সদর) মাসুদ-উল-হাসান  বলেন, ‘নগরীতে কাউকে বসে যাবার মত পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ আমরা দেবনা। ডিএমপিতে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল সেই পদক্ষেপ নেয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে। সিএমপিতে পর্যাপ্ত সরঞ্জামও মজুদ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ব্যবহার হবে।’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ