সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......মায়ানমার উপকূলে ইঞ্জিন বিকল : ৫শ’ কোটি টাকার পণ্য নিয়ে বন্দরে ভিড়লো...

মায়ানমার উপকূলে ইঞ্জিন বিকল : ৫শ’ কোটি টাকার পণ্য নিয়ে বন্দরে ভিড়লো সেই জাহাজ

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে মায়ানমার উপকূলে ইঞ্জিন বিকলের কারণে অচল হয়ে পড়া ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী ক্রেনবিহীন কনটেইনার জাহাজ ‘এমভি গ্লাডিস’ নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস পর অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছেছে। বন্দরের ৩টি টাগসহ মায়ানমার থেকে গ্লাডিসকে টো (টেনে) করে আনা সিঙ্গাপুরের শক্তিশালী টাগ ‘ওশান ইউনিয়ন’ এবং প্রান্তিক মেরিনের টাগ ‘বর্ষণ’ গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে বন্দরের সিসিটি-১ জেটিতে জাহাজটি নিয়ে আসে। এর আগে বহির্নোঙর থেকে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দফা চেষ্টা করেও জাহাজটি জেটিতে আনা যায়নি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপসহ ১১২ আমদানিকারকের ৫০০ কোটি টাকার পণ্য ভর্তি ৬৭৪টি কনটেইনার রয়েছে জাহাজটিতে। এর মধ্যে ঢাকার একজন ফল আমদানিকারকের ২টি রেফার (শীততাপ নিয়ন্ত্রিত) কনটেইনারে আনা কমলা নষ্ট হয়ে গেলেও বাকি পণ্যগুলো ঠিকঠাক রয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজটির বাংলাদেশি এজেন্ট ট্রাইডেন শিপিং লাইন লিমিটেড।

আখতারুজ্জামান সেন্টারের সপ্তম তলায় ট্রাইডেন কার্যালয়ে গতকাল বিকেলে জাহাজ জেটিতে আনার খবর আসার পর উল্লাসে ফেটে পড়েন কয়েকমাস ধরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মুহূর্তের মধ্যে গ্লাডিসে পণ্য আছে এমন সব আমদানিকারককে জানিয়ে দেওয়া হয় খুশির সংবাদটি। শুধু খুশি নয়, রীতিমতো মিষ্টি বিতরণ করা হয় ট্রাইডেনের কর্মী, গ্ল্যাডিসের খবর নিতে কিংবা দাপ্তরিক কাজ সারতে আসা আমদানিকারক, তাদের প্রতিনিধিসহ উপস্থিত সবাইকে। মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করানো হয় উপস্থিত সাংবাদিকদেরও।

ট্রাইডেনের জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন অ্যান্ড লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স) মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব কনটেইনার বন্দর ইয়ার্ডে নামানো সম্ভব হবে। তবে তা নির্ভর করবে বন্দর কর্তৃপক্ষের শর্ত অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের সার্ভেয়ারের ওপর। আমরা সার্ভেয়ার নিয়োগ দিয়েছি। শিগগির তারা কার্যক্রম শুরু করবে।’

তিনি জানান, সব কনটেইনার নামানোর পর জাহাজটি বন্দরের আইডেল বার্থে (কম ব্যবহৃত) রাখা হতে পারে। এরপর জাহাজ মালিক নতুন যে এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নির্ভর করছে জাহাজ মালিকের সিদ্ধান্তের ওপর।

উল্লেখ্য, এমভি গ্ল্যাডিস ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু ২৮ জুলাই মায়ানমার উপকূলে জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে টো করে বন্দরের বহির্নোঙরে আনা হয় ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে বন্দরের ৪টি টাগ বোটের সাহায্যে ১৭৬ দশমিক ৮০ মিটার দীর্ঘ এবং ৯ দশমিক ১ মিটার ড্রাফটের (পানির নিচের অংশ) গ্লাডিসকে জেটিতে টো করার সময় কর্ণফুলী নদীর মোহনার অদূরে জাহাজটি হোঁচট খায়। এতে জাহাজটির তলা সাগরের তলদেশের সঙ্গে লেগে যায়। পরের জোয়ারে ৫টি টাগের সাহায্যে জাহাজটি আবার বহির্নোঙরের সি অ্যাংকরেজে পাঠানো হয়। ১২ অক্টোবর গ্লাডিসকে দ্বিতীয় দফা জেটিতে আনার সময় শক্তিশালী ওশান ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ (শেপটের সিল) খুলে যায়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ