সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন ১১ জন

দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন ১১ জন

১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন ১১ জন। আবার দুজনের শারীরিক অবস্থা একেবারেই সঙ্গীন। ফলে এদের থেকে দশজনকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন সম্ভব না।
এই দুই সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন মোট ১৮ জন। দুইজন দুই সরকারেরই উপদেষ্টা ছিলেন। এই ১৮ জনের মধ্যে মারা গেছেন সাতজন। বাকি ১১ জন থাকলেও নির্বাচনকালীন সরকারে যাওয়ার মতো দশজন পাওয়া সম্ভব না। কারণ দুইজন জানিয়েছেন তারা নির্বাচন নিয়ে কোনো দায়িত্ব দিতে রাজি নন। আরও একজন বলেছেন, দুই নেত্রীর সমঝোতা না হলে হলে তিনি কোনো দায়িত্ব নিতে রাজি নন। আরও দুইজনের শারীরিক অবস্থা ভাল নয়। বাকি সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক  বলেন, ‘আমাদের নেত্রী প্রস্তাব দিয়েছেন, এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত বলতে পারবো না। তবে আলোচনার টেবিলে বসলে সমস্যার সমাধান হতে পারে’।
যোগাযোগ করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নয়জন থাকলে একজন বাইরে থেকে আসতে পারেন’। বাকিরা যে নির্বাচনকালীন সরকারে থাকতে রাজি হবেন, সেটা কীভাবে বুঝলেন, জানতে চাইলে এই বিএনপি নেতা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
নির্বাচনকালীন সরকার কী হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিরোধীপক্ষের মধ্যে বিরোধের কারণে আগামী নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা। অনিশ্চয়তা কাটাতে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের থেকে দশজনকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
প্রস্তাব তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের একটিতে জিতেছে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে বিএনপি-জামায়াত জোট। কাজেই এই দুই নির্বাচন যারা করেছেন তাদেরকে দিয়ে আগামী নির্বাচন করলে তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
কিন্তু ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে যাচাই বাছাই করে দেখা গেছে ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে মারা গেছেন চারজন। তারা হলেন সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, অধ্যাপক শামসুল হক, সেগুফতা বখত চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রহমান খান। বাকি দুইজন অধ্যাপক নাজমা বেগম এবং এ জেড এ নাসিরউদ্দিন কোনো রকম দায়িত্ব পালনে শারীরিকভাবে উপযোগী নন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজমা রহমানের মোবাইলে ফোন করা হলে তা ধরেন তার মেয়ে।  বলেন, ‘মায়ের প্রেসার বেড়ে গেছে। কথা বলার মতো অবস্থায় নেই’।
ওই সরকারের জীবিত উপদেষ্টাদের মধ্যে আছেন গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ব্যবসায়ী সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী এবং শিক্ষাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী।
নির্বাচনকালীন সরকারে থাকতে রাজি আছেন কি না, জানতে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঢাকাটিইমস টোয়েন্টিফোর ডটমককে তিনি বলেন, ‘আমার এসবের প্রতি আগ্রহ নেই। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারবো না’।
ড. ইউনূসের অবস্থান জানতে ইউনূস সেন্টারে যোগাযোগ করা হলে সেন্টারের প্রকল্প কর্মকর্তা শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না। স্যার এখন পোলেন্ডে আছেন’।
মঞ্জুর এলাহী এবং জামিলুর রেজা চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন, এমন দুইজন ইশতিয়াক আহমেদ এবং সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারেও ছিলেন। পরের সরকারের দশ উপদেষ্টার মধ্যে ইশতিয়াক আহমেদ ছাড়াও বিচারপতি বিমলেন্দু বিকাশ রায় চৌধুরী, এ কে এম আমানুল ইসলাম চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী মারা গেছেন।
এই সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন তারা হলেন, পুলিশের সাবেক সাবেক মহাপরিদর্শক এ এস এম শাহজাহান, ব্যবসায়ী সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল মালেক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান এবং প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের পরিচালক রোকেয়া আফজাল রহমান।
নির্বাচনকালীন সরকারে থাকতে রাজি আছেন কি না, জানতে চাইলে এস এম শাহজাহান  বলেন, ‘এখনও সেই পরিবেশ হয়নি। এখনও আগে দুই নেত্রীর সমঝোতা হোক, তারপর আমি আমার অবস্থান জানাবো’।
জানতে চাইলে হাফিজউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব পালন শেষে (২০০১ সালে) নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে-এমন অভিযোগ করেছে কেউ কেউ। আবার নতুন করে অপবাদ নেব কেন? সাড়া দিলে বদনাম হবে।’
বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ তা ধরেননি। আর মুয়ীদ চৌধুরীর ফোন নম্বর যোগাড় করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ