অবশেষে বাস্তবে রূপ পাচ্ছে চমেক হাসপাতালের নতুন ১৫ তলা ক্যান্সার ভবন

অবশেষে বাস্তবে রূপ পাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নতুন ১৫ তলা ক্যান্সার ভবন। আগামী ২৯ জুলাই এ ভবনের ভার্চুয়ালি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ভিত্তি প্রস্তরের পরপরই নির্মাণ কাজ শুরু হবে এ ভবনের। আগের নির্ধারিত স্থানেই ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর। হাসপাতাল পরিচালক আজাদীকে বলেন, ২৯ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নতুন ক্যান্সার ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন। তিনি অনলাইনে এ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কার্যক্রমে যুক্ত হবেন। কয়েকদিন আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের এক অনলাইন বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামসহ ৮টি বিভাগীয় শহরের (ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও খুলনা) মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একশ শয্যার একটি করে ক্যান্সার ইউনিট স্থাপনে এ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায় ২০১৯ সালে। ডিপিপি অনুযায়ী একশ শয্যার ক্যান্সার ইউনিট স্থাপনের জন্য ২টি বেইজমেন্ট (বাংকার)সহ ১৫ তলা বিশিষ্ট একটি করে ভবন নির্মাণের সংস্থান রয়েছে। প্রকল্পটি বায়স্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।
বিশেষায়িত এ ইউনিট নির্মাণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুমোদনের পরই এই অবকাঠামো নির্মাণে জায়গা চিহ্নিত করে জানাতে গণপূর্ত বিভাগ থেকে চিঠি দেওয়া হয় চমেক হাসপাতাল প্রশাসনকে। চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-১ এর তৎকালীন নির্বাহী প্রকোশলী মোহাম্মদ শাহজাহানের স্বাক্ষরে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এ চিঠি দেওয়া হয়। গণপূর্ত বিভাগের চিঠির প্রেক্ষিতে ক্যান্সার ইউনিটের নতুন ভবন নির্মাণে বর্তমান ক্যান্সার ওয়ার্ডের পাশে (ক্যান্টিন সংলগ্ন) খালি জায়গাটি
নির্ধারণ করে হাসপাতাল প্রশাসন। জায়গাটি নির্ধারণ করে গণপূর্ত বিভাগ এবং স্থাপত্য অধিদফতরে চিঠি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত ওই জায়গাতেই ভবনটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর। আর প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদন, স্থান চূড়ান্ত ও ডিজিটাল সার্ভের পর ভবনের নকশা প্রণয়নের কাজও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-১ এর বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী রাহুল গুহ। তিনি বলেন, স্থাপত্য অধিদপ্তর নকশা প্রণয়ন করেছে। একই নকশায় ৮টি বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন এ ভবন গড়ে তোলা হবে। ২৯ জুলাই একই অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবকয়টি (৮টি বিভাগীয় শহরের) ক্যান্সার ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছে। এদিকে, ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পর নির্ধারিত জায়গায় থাকা পুরনো স্থাপনা (ক্যান্টিন ও অন্যান্য স্থাপনা) অপসারণের কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে মেডিকেল কলেজের পুরনো দু’তলা ফার্মাকোলজি ভবনটি (অনেকটা পরিত্যক্ত) নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাহুল গুহ। পুরনো স্থাপনা অপসারণের কাজ শেষ হলে নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংশ্ল্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের অর্থায়নেই গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষায়িত এ ক্যান্সার ইউনিট। এর আগে বিশেষায়িত ইউনিটটি নির্মাণের লক্ষ্যে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ২০১৮ সালে চমেক হাসপাতালকে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে বিস্তারিত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবনা অনুযায়ী- বিশেষায়িত একশ শয্যার এই ক্যান্সার ইউনিটে থাকবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস, অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) সুবিধা। ক্যান্সারের চিকিৎসায় অপরিহার্য রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন ছাড়াও থাকবে সর্বাধুনিক লিনিয়ার এঙিলেটর মেশিনও। এর বাইরে থেরাপি গ্রহণে অক্ষম রোগীদের জন্য থাকবে প্যালেটিভ কেয়ার (ব্যথা নিরাময়ে)।
একশ শয্যার মধ্যে শিশু ক্যান্সার রোগীদের জন্য অন্তত ৫টি শয্যা রাখার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবনায়। আর ইউনিটে অন্তত ৬০-৭০ জন চিকিৎসকের পদ সৃষ্টির কথাও বলা হয়েছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ক্যান্সারের চিকিৎসক ছাড়াও ইউনিটে অন্তত তিন জন অ্যানেসথেসিস্ট, ক্যান্সার সার্জন ও মেডিসিনের চিকিৎসক রাখারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে একজন রোগী আসলে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে তাঁর রোগ নির্ণয়পূর্বক প্রয়োজনীয় থেরাপি ও চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। যেখানে ক্যান্সারের চিকিৎসক ছাড়াও মেডিসিন, ক্যান্সার সার্জন ও অ্যানেসথেসিস্ট থাকবেন বলে জানিয়েছেন ক্যান্সার ওয়ার্ডের সহকারী অধ্যাপক ডা. আলী আসগর চৌধুরী। তাছাড়া ইউনিটে ক্যান্সারের চিকিৎসায় সর্বাধুনিক মেশিন লিনিয়ার এঙিলেটরও থাকবে জানিয়ে ডা. আলী আসগর চৌধুরী বলেন, প্রতিটি ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার মূল্যের অন্তত তিনটি লিনিয়ার এঙিলেটর রাখার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত ক্যান্সার ইউনিটটি স্থাপনের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে ক্যান্সারের চিকিৎসায় অসাধারণ অগ্রগতি হবে বলে মনে করেন ক্যান্সার ওয়ার্ডের প্রধান ডা. সাজ্জাদ মো. ইউসুফ। যার মাধ্যমে চট্টগ্রামের বিপুল সংখ্যক ক্যান্সার রোগী স্বল্প খরচে বিশেষায়িত ক্যান্সার চিকিৎসার সুবিধা পাবেন বলেও জানান তিনি।
সূত্র: দৈনিক আজাদী

About bdsomoy