বিশ্বব্যাপী চলমান কোভিড-১৯ সঙ্কট সত্ত্বেও, সরকার নারী এবং মেয়েদের স্বাস্থ্য-অধিকারের জন্য সমর্থন অব্যাহত রেখেছে

কোভিড -১৯ মহামারী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে  মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে। তারপরেও সরকার, বেসরকারী সংস্থা সমূহ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারী সেক্টরসমূহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারী ও মেয়েদের স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষা করে এমন কর্মসূচির জন্য রাজনৈতিক, আর্থিক এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগোচ্ছে।

এক বছর আগে, আইসিপিডি২৫ এর যুগান্তকারী নাইরোবি শীর্ষ সম্মেলনে, বিশ্ব ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিরোধযোগ্য মাতৃমৃত্যু কমানো, গর্ভনিরোধের প্রয়োজনীয় উপকরনের পর্যাপ্ততা নিশ্চিতকরণ এবং জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ ও নারী যৌনাঙ্গ বিচ্ছেদের মতো ক্ষতিকারক চর্চাগুলি বন্ধ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল।  এই শীর্ষ সম্মেলনে ১৭০টি দেশের ৮,০০০ এরও বেশি প্রতিনিধি যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকারের সমর্থনে ১,২৫০ টি আর্থিক এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতির অঙ্গীকার করেন।

এই শীর্ষ সম্মেলনে ৩০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন যাদের মধ্যে রয়েছেন- মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ. মান্নান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি অসা টর্কেলসন এবং সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, একাডেমিয়া ও যুবসমাজের প্রতিনিধিগন।

আজ, জাতিসংঘের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএনএফপিএ জানাচ্ছে যে, বড় বড় দাতা সরকারসমূহ ইতোমধ্যে নাইরোবিতে প্রতিশ্রুত পরিমাণ সহায়তা প্রদান করেছে। প্রয়োজনের এই সময়ে, কোনো কোনো সরকার নারী ও মেয়েদের অধিকারের প্রতি তাদের অটল প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করতে যে পরিমাণ সহায়তার হাত বাড়িয়েছে তা তাদের প্রতিশ্রুত পরিমাণকেও কয়েকগুণ ছাড়িয়ে  গিয়েছে ।

নাইরোবিতে করা প্রতিশ্রুতিসমূহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ম্লান তো করতেই পারেনি বরং আমাদের মনোনিবেশ এবং সংকল্পকে আরও তীক্ষ্ণ করেছে,” ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ড. নাটালিয়া কানেম বলেন। “আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, অনেক সরকারী, বেসরকারী খাত এবং নাগরিক সমাজের অংশীদাররা তিনি আরও বলেন “আমাদের সম্মীলিত প্রচেষ্টাকে বজায় রাখতে এবং নারী ও মেয়েদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিকে অব্যাহত রাখার জন্য সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে । যতক্ষণ আমরা একসাথে আছি, বিজয়ী আমরা হবই।

নাগরিক সমাজ, বেসরকারী খাত, একাডেমিয়া এবং অন্যরা ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিরোধযোগ্য মাতৃমৃত্যুহারে শূন্য অর্জন, পরিবার পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরেণের শূণ্য অপর্যাপ্ততা এবং জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা এবং ক্ষতিকারক আচারগুলি শূণ্য মাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের অধিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমাবেশ করেছে। সরকার সমূহ বৃহৎ পরিসরেও প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে রয়েছে:

  • পরিবার পরিকল্পনা উপকরণ সমূহের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাজ্য থেকে ইউএনএফপিএ-তে ৪২৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
  • উন্নয়ন ও মানবিক সংকটের খাতগুলিতে ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও এবং অধিকারের জন্য নরওয়ে থেকে ১১ বিলিয়ন নরওয়েইয়ান মুদ্রা (প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)
  • জার্মানি থেকে কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় ইউএনএফপিএকে দেয়া ৩০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) এর পরেও  যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকারের জন্য থেকে ২০মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
  • এডোলোসেন্ট বা কিশোর কিশোরীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকারের জন্যইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ২৯ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
  • যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ডেনমার্ক থেকে ইউএনএফপিএ-তে ডেনমার্কের মুদ্রায় ১০০ মিলিয়ন (প্রায় ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে, ইউএনএফপিএ, কোভিড১৯ মহামারী চলাকালীন সময়েও নাইরোবি শীর্ষ সম্মেলনে করা সমস্ত প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করার জন্য একটি উচ্চস্তরের কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছিল। তানজানিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জাকায়া কিকওয়েতে এবং কানাডার প্রাক্তন গভর্নর জেনারেল  মিশেল জিনের সভাপতিত্বে কমিশন সুপারিশ করবে যাতে করে নাইরোবিতে তৈরি করা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকলের জন্য অধিকার ও পছন্দসই বিশ্বের দিকে এগিয়ে যায়। ডঃ কানেম বলেন,সবার  জন্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার এর নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমরা যে বিশ্বের জন্য লড়াই করছি তা আমরা কখনই হারাব না ।

১৯৯৪ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা ও উন্নয়ন সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিপিডি)  সকলের  জন্য  বিশেষত নারী ও  মেয়েদের  যৌন ও  প্রজনন  স্বাস্থ্য এবং  অধিকারকে  জোর  দিয়ে  ব্যক্তিগত  অধিকার  এবং পছন্দকে  টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে  জোর দিয়েছিল।  জেন্ডার সাম্যতা এবং মানবাধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে আইসিপিডি প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২২টি দেশে অফিস ও একটি আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে এই অঞ্চলের ৩৬টি দেশসহ ১৫০টিরও বেশি দেশে ইউএনএফপিএ এর পরিচালিত কার্যক্রমকে দিক নির্দেশনা দিয়েছে।

About bdsomoy