রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনত্রিরত্নের তৎপরতায় কর্ণফুলী গ্যাসে মধ্যরাতে পদোন্নতির ভাগবাটোয়ারা হয়

ত্রিরত্নের তৎপরতায় কর্ণফুলী গ্যাসে মধ্যরাতে পদোন্নতির ভাগবাটোয়ারা হয়

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে (কেজিডিসিএল) সদ্য পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ছাড়পত্র। মানা হয়নি পদোন্নতির জন্য প্রস্তাবিত তালিকা বা রেটিং শিট। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) থেকে নেওয়া হয়নি অনুমতি ও স্বাক্ষর। সেখানে পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধির তোয়াক্কা না করেই একতরফাভাবে পদোন্নতির পরিপত্র জারি করেন জিএম মার্কেটিং প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেন।

অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতি দিতে অসম্মতি জানানোয় বেশ কয়েকবার নিজ দফতরে লাঞ্ছিত হয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমদ মজুমদার। মূলত কেজিডিসিএলের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা জোর ও প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। গত ২০ আগস্ট রাত ১২টায় দুদকের তদন্ত শেষ না হওয়ার আগেই ২০১১ সালের কথিত ৩৮ জন সহ ৬২ জন কর্মকর্তাকে নজিরবিহীনভাবে পদোন্নতি দেয় কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ। পদোন্নতির নেপথ্যে ভূমিকা রাখা এই তিন কর্মকর্তা হলেন— পেট্রোবাংলা পরিকল্পনা ও পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরী, কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফিরোজ খান এবং কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন দক্ষিণ) প্রকৌশলী আমিনুর রহমান।

জানা গেছে, এর আগে কেজিডিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পদোন্নতি কমিটি বিষয়টি অবগত করলে ওই সময় দুদকের ছাড়পত্র নেওয়ার শর্ত সাপেক্ষে পদোন্নতি প্রদান করা যেতে পারে বলে কমিটির চিঠির নোটে উল্লেখ করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একই সঙ্গে পদোন্নতির জন্য প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের নাম গোপন রাখা হয় ওই চিঠিতে।

সূত্র বলছে, ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি এমডি কেজিডিসিএলে কর্মরত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদানের লক্ষ্যে ও যোগ্যতা মূল্যায়নের অংশ হিসেবে দুদকের ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য অনুমতি চেয়ে চিঠি দেন পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন বরাবরে। ওই চিঠিতে ২০১১ সালের নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৮ জনসহ মোট ১২৮ জন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার একটি তালিকা চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

এছাড়া ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি জানিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে একটি চিঠি দেন পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক রুচিরা ইসলাম। ২০২০ সালের ২৩ মার্চ কেজিডিসিএলের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বিবেচনার লক্ষ্যে দুদকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী ছাড়পত্র প্রদান করে একটি চিঠি দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপ-সচিব মো. আব্দুল খালেক মুল্লিক। এক্ষেত্রে উপরোক্ত এসব চিঠির উত্তরে দুদকের কাছে কোনো তথ্য চাওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি সরকারের এসব বিভাগ ও দফতর।

দুদক সূত্র বলছে, ২০১১ সালের একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নেওয়া ২০টি পদের বিপরীতে নেওয়া হয় চতুর্থ গ্রেডের ৩৮ জন সহকারী কর্মকর্তা। অনুসন্ধানে নিয়োগ পরীক্ষার মেধাতালিকায় সত্যতা পাওয়া গেছে মাত্র ছয়জনের নাম। বাকি ৩২ জনের নিয়োগই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এদের নিয়োগ পরীক্ষার কোনো নথি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার খাতা কিছুই পাওয়া যায়নি। কারও কারও সনদও ছিল জাল। কেউ কেউ ফলাফলের আগেই পাশ দেখিয়ে সার্টিফিকেট জমা দিয়েছে নিয়োগের সময়।

দুদক বলছে, ২০১১ সালের ব্যাচে ৩৮ ও ২০১৫ সালের ব্যাচে ৮ সহকারী কর্মকর্তার পরীক্ষার মূল নথিপত্র এখনও জব্দ রয়েছে। এখনও শেষ হয়নি চলমান অনুসন্ধান। এতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুপস্থিতিতে দুদকের ছাড়পত্রবিহীন তাদের জব্দকৃত নথিপত্রের ফটোকপি দেখিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন দক্ষিণ) প্রকৌশলী আমিনুর রহমানকে এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

কেজিডিসিএল-এর মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফিরোজ খান বলেন, ‘আমরা নিয়ম অনুসারে পেট্রোবাংলাকে দুদকের ছাড়পত্র পেতে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে আমাদের ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়ার জন্য গঠিত কমিটির সদস্যরা এ পদোন্নতি পরিপত্র জারি করেন। এতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এমডির স্বাক্ষর নেওয়া ও তার নোটের উত্তর দেওয়া মূখ্য বিষয় নয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলা পরিকল্পনা ও পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে প্রপ্রাগান্ডা চালাচ্ছেন কিছু লোক। সদ্য দেওয়া পদোন্নতিতে প্রভাব বিস্তার করার এক বিন্দু পরিমাণও কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই আমার। এ বিষয়ে ২৪ আগস্ট দুপুরে কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমদ মজুমদারের মুঠোফোনে কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও এ ব্যাপারে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। – চট্টগ্রাম প্রতিদিন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ