ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্যে স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের বিশেষ ‘সাউথ সাউথ’ পুরস্কারকে জনগণের প্রাপ্য বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় আন্তর্জাতিক এ মর্যাদা ও সম্মান অব্যাহত রাখতে সকলের দোয়া চান তিনি।
সোমবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ভিভিআইপি লাউঞ্জের হলরুমে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সকলের দোয়া চেয়ে বলেন, ২০০৮ সালে দেশের মানুষ ভোট দিয়ে জনগনের সেবা করার সুযোগ না দিলে এ সম্মান বয়ে আনতে পারতাম না।
এর আগে অ্যামিরেটস এর একটি বিমানযোগে সাড়ে ৫টায় বিমানবন্দরে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে ৫টা ৫০ মিনিটে ভিভিআইপি লাউঞ্জের হলরুমে প্রবেশ করলে মুহুর্মুহু করতালির মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও পেশাজীবীরা তাকে বরণ করে নেন।
পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, চিফ হুইপ আবদুস শহীদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা, জাতীয় বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য ড. হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে শিক্ষক সমাজ, জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের নেতৃত্বে চিকিৎসক সমাজ, সাংবাদিক রাহাত খান ও শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সাংবাদিক সমাজ, রামেন্দু মজুমদার ও গোলাম কুদ্দুসের নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল সংবর্ধনা দেন।
এরপর একে একে ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে যুবলীগ, শক্কুর মাহমুদ ও সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রমিক লীগ, আশরাফুন্নেছা মোশারফ ও পিনু খানের নেতৃত্বে মহিলা আওয়ামী লীগ, মোল্লা আবু কাউছার ও পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, অপু উকিল ও নাজমা আক্তারের নেতৃত্বে যুব মহিলা লীগ, ইমাউল হক সরকার টিটু ও শামসুল কবির রাহাতের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাহারা খাতুন, মাহবুব উল আলম হানিফ, অসীম কুমার উকিল, আমিনুল ইসলাম আমিন, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য বিশ্বনেতা যার সঙ্গেই দেখা হয়, তারা বাংলাদেশের ভূঁয়সী প্রশংসা করে।
জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, দোয়া করবেন আন্তর্জাতিক যে সম্মান অর্জন করেছি তার ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। এ পুরস্কার সকলের প্রাপ্য। বিশেষ করে ২০০৮ সালে নির্বাচনে যারা ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকারকে ক্ষমতায় এনে জনগণের সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছেন তাদের সবার। তারা সুযোগ দিয়েছে বলেই এ পুরস্কার, সম্মান বয়ে আনতে পেরেছি। এজন্য দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। যে মর্যাদা ও সম্মান আন্তর্জাতিকভাবে পেয়েছি সেটা যেন অব্যাহত থাকে। যে জাতি যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে, বিজয়ের জাতি হিসেবে বিশ্ব সভায় মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে বিশ্বমন্দা থাকা সত্ত্বেও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছি। এ পুরস্কার তার প্রমাণ। ২০০০ সালে জাতিসংঘে সম্মেলন হয়। সেখানে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৬টি বিষয়ের ওপর প্রস্তাব আনা হয়। এসব বিষয়ের ওপর বাংলাদেশেরও কিছু প্রস্তাব ছিল। তখনও আমি প্রধানমন্ত্রী ছিলাম এবারও আমি প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে এগুলো কার্যকর করার কথা ছিল। কিন্তু দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা ও শিশু মৃত্যুহারে আমরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌছাতে সক্ষম হয়েছি। অন্যান্য বিষয়গুলোতেও আমরা অনেক এগিয়ে রয়েছি। এগুলো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও সন্নিবেশিত করি। পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন পরিকল্পনায়ও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য। যেন ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত করতে পারি।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ পুরস্কৃত হয়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় ও দারিদ্র বিমোচন হয়। ১৯৯১ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬ ভাগ। আমরা এটাকে ২৬ ভাগে নামিয়ে এনেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমন্দার এ যুগেও আমরা আামদের প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৪ অব্যাহত রেখেছি। বারবার দেশের জন্য পুরস্কার নিয়ে এসেছি।
প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিকেল থেকেই বিমানবন্দরে হাজার হাজার নেতা-কর্মী জড়ো হতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে বের হন সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে। এর এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার গাড়ির সামনে সংবর্ধনা জানাতে আসা অগণিত নেতা-কর্মী তার গাড়ির পথরোধ করেন। পরে গাড়ি থামিয়ে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নেতা-কর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসএসএফ পিজিআর সবাইকে বেগ পেতে হয়। জাহাঙ্গীর গেট থেকে গণভবন পর্যন্তও কয়েক হাজার নেতা-কর্মী রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তারা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় তারা শেখ হাসিনার সরকার – বার বার দরকার, মুজিবের বাংলায়-রাজাকারের ঠাঁই নাই এ ধরনের বিভিন্ন শ্লোগান দেন।




