চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহা সড়কের পটিয়া হাসপাতাল গেইট এলাকায় সওজের কোটি টাকার জায়গা দখল ও পটিয়া পৌরসভার অনুমতি না নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করায় পৌর কর্তৃপক্ষ বুধবার বেলা ৩টার দিকে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে পটিয়া উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে থানার মোড়ে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা, মহা সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও পরে পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদের বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এর পর পৌর কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। অবশ্যই এসময় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) পটিয়া উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলীর পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
পটিয়া হাসপাতালের প্রধান ফটক এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ মহাখুশি।
পৌরসভা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহা সড়কের পটিয়া হাসপাতাল গেইট এলাকায় সওজের কোটি টাকার জায়গায় একটি প্রভাবশালী মহল জেলা পরিষদ থেকে অবৈধভাবে লীজ নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। প্রথম শ্রেণীর পটিয়া পৌরসভার অনুমতি ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ কাজ করায় পৌর কর্তৃপক্ষ স্থাপনা নির্মাণকারী ইসরাত হোছাইনকে নোটিশ দিয়ে সর্তকও করেছিল। কিন্তু তারা কাজ বন্ধ করেনি।
মূলত সরকারি দলের একটি প্রভাবশাল মহলের ইশারায় সওজের কোটি টাকার জায়গা অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা করেছিল। সওজ কর্তৃপক্ষ নীরব থাকলেও পৌরসভার অনুমতি ছাড়াই অবৈধ স্থাপন নির্মাণ করায় উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, পটিয়া উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের নেতা আহমদ নূর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শামসুদ্দিন আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ছৈয়দ, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল খালেক, চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, পৌর আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়ুব বাবুল, আলমগীর আলম, জেলা যুবলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন পারভেজ।
পরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, কাউন্সিলর গোফরান রানা, কাউন্সিলর শফি, পটিয়া পৌরসভার সচিব মোহাম্মদ মহসিন, পৌরসভার প্রকৌশলী মিজানুর রহমান খন্দকার ছাড়াও দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সদস্য সেলিম নবী, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উপস্থিত ছিলেন। অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করায় পটিয়া উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে পৌর মেয়রকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, পৌর সদরের হাসপাতাল গেইট এলাকায় সওজের জায়গায় অবৈধভাবে যে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে তা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কারণ তারা পৌরসভা থেকে কোন ধরনের অনুমতি নেননি। তাছাড়া অবৈধ স্থাপনা স্বউদ্যোগে সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সরিয়ে না নেওয়ায় উচ্ছেদ করা হয়েছে।




